
ইবি রিপোর্ট
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় স্কিমের বিভিন্ন শর্তে ব্যবহৃত ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘শিল্প’ শব্দ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে। এতে গত ৪ জুন জারি করা মূল সার্কুলার এবং ৭ জুলাইয়ের সার্কুলার লেটারের কয়েকটি বিধান সংশোধন করা হয়।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগের সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের বিভিন্ন স্থানে থাকা ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দদ্বয়ের পরিবর্তে ‘শিল্প’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। ফলে এখন থেকে স্কিমের সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোতে শুধু ‘শিল্প’ শব্দটি প্রযোজ্য হবে।
এর আগে জুনে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে।
সংশোধিত নির্দেশনায় স্কিমের আওতায় প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদনের বিষয়টিও পরিষ্কার করা হয়েছে। তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে স্কিমের তিন বছরের মেয়াদের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।
স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের ছয় মাস পর থেকে এ সুদ পরিশোধ শুরু হবে। একই সঙ্গে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে দেওয়া ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণের ছয় মাস পর থেকে গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ সময় প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও আদায় করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলার লেটারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ ছাড়া স্কিমটির তিন বছরের মেয়াদকালে তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে যেকোনো সময়ে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে বলে নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।