• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > স্বর্ণের দাম নিয়ে নতুন পূর্বাভাস, বাড়ার সম্ভাবনা কতটা

স্বর্ণের দাম নিয়ে নতুন পূর্বাভাস, বাড়ার সম্ভাবনা কতটা

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৮
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে এখন নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, সুদের হার, ডলারের দর ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সামনে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

বুধবার বিকেলে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৪৫ ডলারের আশপাশে ছিল। বছরের শুরুতে গত ২৮ জানুয়ারি দাম উঠেছিল রেকর্ড ৫ হাজার ৬০২ ডলারে। পরে তা নেমে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারের আশপাশে চলে আসে।

বাংলাদেশেও চলতি বছর স্বর্ণের দাম কয়েক দফা ওঠানামা করেছে। গত ২৪ জুলাই ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি দুই লাখ ২০ হাজার টাকার ঘরে নেমেছিল। বুধবার তা কিছুটা বেড়ে দুই লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বর্ণের বাজার বরাবরই অস্থির। বৈশ্বিক অর্থনীতি, যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি, ডলারের দর এবং সুদের হারের পরিবর্তন এর দামে প্রভাব ফেলে। ফলে স্বর্ণের দাম কতটা কমবে বা বাড়বে, তা আগাম নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান হাবীব বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম আরো অস্থির হতে পারে। ডলারের দর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ায় বা কমায় কি না, তার প্রভাব স্বর্ণের বাজারে পড়বে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণ মজুদের প্রবণতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া রিজার্ভের স্বর্ণ বিক্রি করছে। আবার চীন প্রতি মাসে স্বর্ণ কিনে তার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের গ্রহণযোগ্যতা কমছে। এর সঙ্গে রয়েছে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোও স্বর্ণ কিনছে। ফলে প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে দাম কমার কারণ

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে জ্বালানির দাম এবং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পাশাপাশি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির মূল সূচক চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় সুদের হার চড়া রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে সুদনির্ভর সম্পদে বিনিয়োগের আয় বাড়ে। ফলে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয়ও বাড়ে।

ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের বাজার বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক ওয়ালবাউম রয়টার্সকে বলেন, ফেডের কঠোর নীতি স্বর্ণের দাম আরো নিচে নামাতে পারে। অন্যদিকে ফেড নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিলে স্বর্ণের দাম আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ মজুদ

অস্থিরতার মধ্যেও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা উত্তর আমেরিকা থেকে কয়েক টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, এই স্থানান্তরের ফলে তারা ‘গুরুতর সংকটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত’ থাকবে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ জোসেফ কাভাতোনি বলেন, যুদ্ধ ও বাণিজ্য উত্তেজনা এসব সিদ্ধান্তে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং দ্রুত লেনদেন করা যায় এমন স্থানে স্বর্ণ রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আবার কি বাড়বে দাম

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে গড়ে ১ হাজার টন স্বর্ণ সংগ্রহ করেছে। এর আগের দশকে এই গড় ছিল ৫০০ টন। বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির কারণে আগামী বছর এই পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমান দামের তুলনায় যা প্রায় ৩০০ ডলার বেশি।

অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে ফেডের সুদের হার, তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুদ বাড়ানো এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের চাহিদা ধরে রাখতে পারে।

ড. আহসান হাবীব বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় স্বর্ণকে একটি মুদ্রা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাই বিভিন্ন দেশ ও ব্যক্তি রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ রাখে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে মানুষ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তার মতে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে এবং এর ফলে স্বর্ণের দাম শিগগিরই আবার বাড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17551 ,   Print Date & Time: Thursday, 17 September 2026, 12:12:34 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh