• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ, তহবিল ১,৫০০ কোটি

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ, তহবিল ১,৫০০ কোটি

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৯
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বল্প সুদের ঋণ দিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করছে সরকার। বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবার জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ তহবিল থেকে দেওয়া ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর হবে। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে রাখা হবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেট মিটারিং সংযোগ এবং সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে এ ঋণ নেওয়া যাবে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচ পাম্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি কেনাতেও অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও ভর্তুকির চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

জ্বালানি অর্থনীতিবিদ শফিকুল আলম উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি টিবিএসকে বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এমন স্বল্প সুদের তহবিল আগে ছিল না। তার মতে, এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। ঋণ বিতরণে ইডকল ও পিকেএসএফকে যুক্ত করায় পল্লী এলাকার আগ্রহীরাও সুবিধা পাবেন।

তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শুধু ঋণ যথেষ্ট নাও হতে পারে বলে মনে করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা অনেক মানুষের জন্য ঋণ নিয়ে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করা কঠিন। তাদের জন্য ক্যাপিটাল সাবসিডি বা ক্যাপিটাল ইনসেনটিভ চালু করা হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক বলেছেন। তবে তিনি তহবিল ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সারা দেশে বিতরণ করলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে। তাই একজন কত টাকা ঋণ পাবেন, কারা যোগ্য হবেন এবং ঋণের ব্যবহার কীভাবে পর্যবেক্ষণ হবে, তা নির্ধারণ জরুরি।

যেভাবে গঠন হচ্ছে তহবিল

পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এসএমই খাতের জন্য রাখা ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা এ তহবিলে দেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা সরকারের অপারেটিং লোন থেকে দেওয়া হবে।

তহবিলের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে ইডকল, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড ও পিকেএসএফকে ৫০০ কোটি টাকা করে ঋণ দেবে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণের সুদহার হবে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঋণচুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ পাবে। পরে তারা সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ঋণ দিতে পারবে। ঋণের কার্যকর বার্ষিক সুদের হার কোনোভাবেই ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা, সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ঋণ আদায়ের তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে দিতে হবে। অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাবসহ বার্ষিক প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে।

তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, লোন এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা যাবে না। ব্যক্তিগত ভোগ, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিল বা প্রকল্পে অর্থ স্থানান্তরেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে আরও সুবিধা

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় দেওয়া হয়েছে।

আইআরডির ১৬ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী, শিল্পে ব্যবহারের জন্য সোলারের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এসব যন্ত্রপাতি ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করা যাবে।

অন্যান্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও দেশে উৎপাদিত কয়েকটি কম্পোনেন্ট ছাড়া সোলারের প্রায় সব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ১ শতাংশ শুল্কে আনতে পারবেন। আগে এসব পণ্যে আমদানি করের হার ছিল ২৩ থেকে ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়া বড় বিনিয়োগকারীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে নেট মিটারিং সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17529 ,   Print Date & Time: Thursday, 17 September 2026, 11:21:14 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh