
ইবি রিপোর্ট
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রোগ প্রতিরোধের দিকে নিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালু, ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থা, ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান অবকাঠামোকে জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতের জন্য প্রায় ২০টি কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের পুরোনো সমস্যাগুলো কাটিয়ে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, স্বাস্থ্য খাতের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা বাড়ানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়হীনতা দূর করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। তাঁর মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে মূলত চিকিৎসাকেন্দ্রিক ছিল। এখন সেটিকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ও সেবার মান বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর উদ্দেশ্য দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেশের মধ্যেই নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর দেশের মানুষ ৭ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশে ব্যয় করে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও নানা ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। এসব কারণে মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। তাই দেশের ভেতরেই চিকিৎসার মান ও সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকে সংস্কার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে গত ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মধ্যে বাজেট বাড়ানোর বিষয়টিকে বড় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই আর্থিকভাবে চাপে পড়ছে। তাই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় কমানো, মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ এবং বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সহজলভ্য করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি। দেশে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি বিভাগের ব্যবস্থা থাকলেও সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নেই। এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। জিয়াউদ্দিন হায়দারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিককে হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে একজন ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থা চালু হলে রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সঠিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হবে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং রোগী দেখার হারও পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের প্রথম বছরের মধ্যেই এই ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে রোগীর চিকিৎসার তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে।
হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নেও নেওয়া হচ্ছে একাধিক উদ্যোগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা কমাতে হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যানসার কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি ইউরোপীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে এ কাজে আর্থিক সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। এসব ক্যানসার কর্নারে বিশেষ করে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে।
জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়েই সাধারণ টারশিয়ারি চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো হবে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সংস্কারের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহর—দুই এলাকাকেই পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে হেলথকেয়ার ইউনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে থাকবে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং এর নিচে তিনটি কমিউনিটি হাব।
বর্তমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ধীরে ধীরে কমিউনিটি হাবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে হেলথকেয়ার সেন্টার ও হাবের নকশা চূড়ান্ত করেছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অর্গানোগ্রামও তৈরি করা হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথম বছরের মধ্যেই পরিকল্পনার একটি অংশ বাস্তবায়ন করে জনবল নিয়োগের পর সেবা চালুর আশা করছে সরকার।
স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়হীনতা দূর করার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, এতদিন শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক ধরনের টানাপড়েন ছিল। দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার এই দায়িত্ব বিভাজনের প্রভাব স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পড়ছিল। বিষয়টি সমাধানে শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায়ও সমন্বয় আনার উদ্যোগ রয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডাররা আলাদা কাঠামোর অধীনে কাজ করেন। তাঁদের কাজকে সমন্বিত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন ধরনের জনবলকে ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিয়িং ওয়ার্কার’ নামে একটি কাঠামোর অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মাধ্যমে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সংস্কার পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিগ্রহ ও সহিংসতার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রোগীরাও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। উভয় পক্ষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মন্ত্রিসভায় এবং পরে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা রয়েছে।
এর পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন জিয়াউদ্দিন হায়দার।
স্বাস্থ্যবীমার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ট্যাক্সভিত্তিক ব্যবস্থা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা দেওয়া সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালের খালি শয্যা ব্যবহার করে সরকারি তত্ত্বাবধানে রোগীকে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করার চিন্তা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গত ১৭ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি, পদায়নসংক্রান্ত জটিলতা ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কথা উল্লেখ করেছেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতি কমাতে চিকিৎসক ও নার্সদের বদলি প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। এতে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোকে কার্যকর করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, নতুন ভবন তৈরি করলেই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় না। বিদ্যমান অবকাঠামোয় প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ ও সরঞ্জাম না থাকলে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে পারে না। তাই পুরোনো অবকাঠামোকে কার্যকর করে তোলাই এখন একটি বড় লক্ষ্য।
দায়িত্ব নেওয়ার পর হাম পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টিও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, ২০২০-২১ সালে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে টিকাদান কার্যক্রম যথাযথভাবে কাভারেজ পায়নি। পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনার ঘাটতি ও গুরুত্ব অনুধাবনের সমস্যার কারণে ২০২৫ সালে হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গাভি ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় হামের টিকার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর দাবি, রিপোর্ট পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে টিকার ব্যবস্থা এবং এক মাসের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে গত ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডকে তিনি মূলত দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যা পরিষ্কারের সময় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব উদ্যোগকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক পর্যায়েই মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে সেই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে অবকাঠামো, জনবল, ওষুধ, সরঞ্জাম এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায় তার ওপর। সরকারের সামনে তাই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি সুশাসন ও জবাবদিহি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও থাকছে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনে সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকর সেবা পৌঁছানোই এখন মূল পরীক্ষা। প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক সেবা থেকে বিশেষায়িত চিকিৎসা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিত করা গেলে স্বাস্থ্য খাতে ঘোষিত সংস্কারগুলোর বাস্তব প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেই প্রতিফলিত হবে।