• হোম > দেশজুড়ে | রাজধানী | সারাদেশ > দুই দশকেও সরেনি কারওয়ান বাজার, এবার গাবতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ

দুই দশকেও সরেনি কারওয়ান বাজার, এবার গাবতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার সরানোর উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রায় দুই দশক আগে রাজধানীর যানজট কমানো এবং পাইকারি বাজারকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে কারওয়ান বাজারের ব্যবসা গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে একের পর এক সরকার ও প্রশাসনের পরিবর্তন হলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর যানজট কমানো এবং পরিবহন ও পাইকারি বাজার পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মাইকিংসহ ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া এবার কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে? কারণ কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য যে তিনটি বিকল্প বাজার তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটিই বর্তমানে পুরোপুরি প্রস্তুত বা কার্যকর অবস্থায় নেই।

গাবতলী মোড় থেকে বেড়িবাঁধের দিকে কিছুটা এগোলেই হাতের বাম পাশে গাবতলীর পাইকারি কাঁচাবাজার। সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাজারের জন্য নির্মিত ভবনগুলো অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা কাচ পড়ে আছে, দেয়ালের রং উঠে গেছে। কোনো পাইকারি আড়ত সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

বাজারের ভবন ও আশপাশের জায়গা বর্তমানে অনেকটা পতিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক্সকাভেটর, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন রাখা হচ্ছে।

বাজারের প্রবেশমুখে আবার ডিএনসিসি পরিবহন চালক ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে।

ইউনিয়ন নেতা আবদুল কাদির বলেন, গাবতলীর বর্তমান অবস্থা দেখে কারওয়ান বাজারের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীকে সেখানে স্থানান্তর করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাজারের ভবনগুলো পুরোনো হয়ে গেছে এবং বর্তমানে জায়গাটি অনেকটা যানবাহন রাখার স্থানে পরিণত হয়েছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসা গাবতলীতে স্থানান্তর করা হলে গাবতলী মোড় থেকে ঢাকা উদ্যান পর্যন্ত নতুন করে যানজট তৈরি হতে পারে।

কারওয়ান বাজারের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা অন্য দুটি বাজারের অবস্থাও খুব একটা ভিন্ন নয়।

মহাখালীর বাজার ভবনটি একসময় কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে সেখানে ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। যারা আগে জামানত বা সালামি মূল্য দিয়েছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ডিএনসিসি।

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ীর বাজারে কিছু দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলেও কারওয়ান বাজারের কোনো পাইকারি আড়ত সেখানে স্থানান্তরিত হয়নি। ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ীর স্থাপনাগুলোর নিয়মিত ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যাও হচ্ছে না।

ডিএনসিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ যাত্রাবাড়ীতে বসে থাকলেও সেগুলো বৈধ বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত নয়। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সেখানে নেওয়ার জন্য একাধিকবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যাতে পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার সরানোর পরিকল্পনা নতুন নয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৬ সালের অক্টোবরে ‘ঢাকা শহরের তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ’ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। লক্ষ্য ছিল কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসা গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীতে স্থানান্তর করা।

পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। ডিপিপি অনুযায়ী, তিনটি বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ বর্গফুট আয়তনের মোট ২ হাজার ৯৩৯টি দোকান নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ৮৯৫, গাবতলীতে ৫৪৯ এবং মহাখালীতে ৩৬০ জন ব্যবসায়ীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিল।

২০১০ সালের মধ্যে কারওয়ান বাজার সরিয়ে নেওয়ার প্রথম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিকল্প বাজারগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করে ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগও সফল হয়নি।

তিন দফা সময় বাড়ানোর পর ২০১৭ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকায় দাঁড়ায় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর ওই বছরই কারওয়ান বাজারের বড় একটি অংশ এবং পরে পুরো বাজার সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ব্যবসায়ীরা আগের জায়গাতেই থেকে যান।

২০০৬ সালের প্রকল্প অনুমোদনের পর দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। চারদলীয় জোট সরকারের পর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময় এবং সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু কোনো সময়েই কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচামালের আড়ত পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি।

২০২৩ সালে আবারও গাবতলী ও যাত্রাবাড়ীর বাজারে ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি।

এরপর ২০২৪ সালের মার্চে তৎকালীন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম ঈদের পর কারওয়ান বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকা ১৭৬টি স্থায়ী দোকান গাবতলীতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ও সরিয়ে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারওয়ান বাজার আগের অবস্থানেই থেকে যায়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু বর্তমান জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিপুলসংখ্যক আড়তদারের জন্য কার্যকর ও বাস্তবসম্মত বিকল্প তৈরি করতে হবে।

ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কারওয়ান বাজারে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ আড়তদার রয়েছেন। বাজারটিকে ঘিরে রয়েছে ১৪টি ব্যবসায়ী গ্রুপ।

উত্তর কারওয়ান বাজার আদর্শ ফল ব্যবসায়ী আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আবু সালেক বলেন, যাত্রাবাড়ীতে যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ কেউ সেখানে যেতে পারেন। কিন্তু কারওয়ান বাজারে থাকা হাজার হাজার ব্যবসায়ীর জন্য বড় পরিসরের একটি জায়গা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করলে ঢাকার বাইরে বা আশপাশে বড় জায়গায় একটি আধুনিক পাইকারি বাজার তৈরি করা সম্ভব। সেখানে ব্যবসায়ীদের জন্য বড় শেড নির্মাণ করে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলে তারা স্থানান্তরে আগ্রহী হতে পারেন।

চীনে বড় বাজার ব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য বড় শেড তৈরি করে দিয়েছে এবং কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

কারওয়ান বাজারের যানজটের জন্য ব্যবসায়ীরা শুধু বাজারের অবস্থানকে দায়ী করছেন না। সড়কে মালামাল ওঠানো-নামানো এবং চাঁদাবাজিকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন তারা।

আবু সালেকের ভাষ্য, নির্দিষ্ট সড়কে মালামাল ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, ভিআইপি সড়কে মালামাল ওঠানো-নামানো বন্ধ করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে পণ্য ওঠানো এবং এর সঙ্গে যুক্ত কথিত চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কারওয়ান বাজার পাইকারি কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিরোজ আলম বলেন, গাবতলীতে যেখানে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে বর্তমানে ট্রাক, রড ও সিমেন্ট পড়ে আছে। সেখানে ব্যবসায়ী বা সাধারণ ক্রেতার উপস্থিতি নেই।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কারওয়ান বাজারের ব্যবসা যে পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে, নতুন বহুতল ভবনে একইভাবে তা পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। অনেক আড়ত একতলা ও টিনশেড ভবনে পরিচালিত হয়। ফলে বহুতল ভবনে মালামাল ওঠানো-নামানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন এলাকায় গেলে ক্রেতারা সেখানে আসবেন কি না, সেটিও ব্যবসায়ীদের একটি বড় প্রশ্ন।

কারওয়ান বাজার স্থানান্তর নিয়ে নতুন সরকারের আমলে গত ১৭ জুন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।

সেই সভায় ব্যবসায়ীরা বর্তমান জায়গা থেকে পাইকারি বাজার সরানোর বিরোধিতা করেন। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সাইফুর রহমান চৌধুরী বর্তমান জায়গাতেই আধুনিক বহুতল আড়ত ও শপিং মল নির্মাণের দাবি জানান।

এর প্রায় দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাইকারি বাজার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা আসে।

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাবিবুল আলম জানান, নির্দেশনার পর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মাইকিং চালানো হচ্ছে এবং আরও কিছুদিন এই কার্যক্রম চলবে।

তবে নতুন বাজারগুলোতে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নীতিগত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

হাবিবুল আলম বলেন, যাত্রাবাড়ী ছাড়া অন্য দুটি বাজারে এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে ডিএনসিসি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রচার ও বাজার সরানোর বিষয়ে মাইকিংয়ের প্রতিবাদে গত ৩১ আগস্ট কারওয়ান বাজার সিটি করপোরেশন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সেখানে তারা বর্তমান ব্যবসায়ীদের জন্য কারওয়ান বাজারেই স্থায়ী দোকান বরাদ্দ এবং যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান।

ব্যবসায়ীদের দাবি, হঠাৎ বাজার খালি করার ঘোষণা দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্যমান ব্যবসায়িক পরিবেশ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ধরে রাখতে কারওয়ান বাজারের জায়গাতেই সব ধরনের বাজারকে একটি কেন্দ্রীয় বাজারে একীভূত করার প্রস্তাবও দেন তারা।

ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা মনে করেন, কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে আটকে আছে। এ কারণে বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

তিনি বলেন, মহাখালীতে ব্যবসায়ীদের নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হওয়ায় সেই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রাবাড়ীতেও একাধিকবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

যাত্রাবাড়ীর ভবনগুলোতে ব্যবসায়ীদের নিচতলায় দেওয়া হবে নাকি দোতলায়, সেটি নিয়েও নানা প্রশ্ন ছিল। বাস্তবে কোনো ব্যবসায়ীই যাত্রাবাড়ী বা গাবতলীতে গিয়ে নিজের আড়ত স্থানান্তর করেননি।

ডিএনসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমানের মতে, পরিকল্পিত নতুন বাজারে পাইকারি ব্যবসা স্থানান্তর করা গেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার যানজট এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উন্নতি হতে পারে।

তবে কারওয়ান বাজারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

অর্থাৎ শুধু পুরোনো বাজার খালি করাই নয়, নতুন বাজারে ব্যবসায়ীদের জন্য অবকাঠামো, দোকান বরাদ্দ, পণ্য পরিবহন, ক্রেতাদের যাতায়াত, পার্কিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও চলছে ব্যবসা

কারওয়ান বাজার স্থানান্তরের আরেকটি বড় কারণ বাজারের বর্তমান ভবনগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক প্রতিবেদনে ডিএনসিসির আওতাধীন ৪৩টি মার্কেটের মধ্যে ২০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে কারওয়ান বাজারের ১ নম্বর মার্কেট, ২ নম্বর মার্কেট, অস্থায়ী কিচেন মার্কেট এবং কাঁচামালের আড়ত মার্কেট ভবনকে ‘অতি নাজুক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৯ সালের ১ এপ্রিল এসব মার্কেট পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ডিএনসিসি। কিন্তু এরপরও ওইসব মার্কেটে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, কারওয়ান বাজার স্থানান্তরের পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের ওপর বিষয়টি নির্ভর করায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এতদিন শুরু হয়নি।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারের বর্তমান ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। যথাযথ কমিটি, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট ও এমআইএসটির মতো প্রতিষ্ঠানের কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা করেই ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে দীর্ঘদিনের পুরোনো পরিকল্পনা এখন আবার বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে। কিন্তু গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালীর বর্তমান অবস্থা এবং ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় কারওয়ান বাজারের হাজারো ব্যবসায়ীকে বাস্তবে কোথায় এবং কীভাবে স্থানান্তর করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17506 ,   Print Date & Time: Thursday, 17 September 2026, 10:03:10 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh