
ইবি রিপোর্ট
টানা তিন দফা দাম কমার পর দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর ফলে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে বাজুস নির্ধারিত এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।
বাজুসের নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের প্রতি ভরি, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম, দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা দরে।
অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই সময় ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল। তখন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা।
এর এক দিন পরই নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে। ফলে সর্বশেষ নির্ধারিত দামের তুলনায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের অলংকারের ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দেওয়ার পর ১২ শতাংশ বাদ দিতে হবে। আর পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও জানিয়েছে বাজুস।
স্বর্ণের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে থাকে বাজুস। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে নির্ধারিত নতুন দামেই দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণ বিক্রি হবে।