• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় > নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগ বিএসইসির

নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগ বিএসইসির

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬
  • ১০

---

 

ইবি রিপোর্ট

পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং ডাইরেক্ট লিস্টিং বা সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানির জন্য আইপিওর পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, তবে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

বুধবার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজার থেকে নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে আগ্রহী কোম্পানিগুলো বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ অনুসরণ করে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে এমন কোম্পানির জন্য আইপিও পদ্ধতিই মূল পথ হিসেবে থাকছে।

বর্তমানে যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে আগ্রহী, তাদের বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করেছে কমিশন। ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কারণে বর্তমানে আবেদনকারী বা আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে বিএসইসি।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকে সেই পরিবর্তনের আওতায় প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া হবে।

আইপিওর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। যেসব কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন করে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চান, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এ ক্ষেত্রে কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করতে হবে না। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও নতুন করে মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। বরং কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমেই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।

এর ফলে এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোও পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পেতে পারে, যাদের ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই।

বিএসইসি ইতিমধ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়াটি প্রকাশও করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধিকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। অর্থাৎ সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী কোম্পানিকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিএসইসির মতে, প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারধারীদের তাদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ তৈরি হবে।

কমিশন মনে করছে, কোম্পানির ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক তালিকাভুক্তির সুযোগ থাকলে পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। নতুন মূলধনের প্রয়োজন রয়েছে—এমন কোম্পানিগুলো আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসবে। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধন প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তারা ডাইরেক্ট লিস্টিংকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে।

এভাবে দুই ধরনের কোম্পানির জন্য আলাদা পথ তৈরি হলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যমান কোম্পানির শেয়ারও বাজারে লেনদেনের আওতায় আসতে পারে।

বিএসইসি জানিয়েছে, ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

কমিশনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন এবং বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের আগ্রহ—দুই ধরনের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং বাজারের পরিধি সম্প্রসারণের একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17492 ,   Print Date & Time: Thursday, 17 September 2026, 12:12:40 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh