
ইবি রিপোর্ট
তিন মাস ১০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। মাছ ধরার অনুমতি পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার থেকে জেলেরা হ্রদে মাছ শিকার করছেন। গত পাঁচ দিনে তাদের জালে ৬৪০ মেট্রিক টন মাছ ধরা পড়েছে। এসব মাছ থেকে এক কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৭ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।
রোববার সকালে রাঙ্গামাটির বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নৌকায় করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন। সেখানে মাছ ব্যবসায়ীরা বিএফডিসিকে নির্ধারিত রাজস্ব দিয়ে জেলেদের কাছ থেকে মাছ বুঝে নিচ্ছেন।
পরে ব্যবসায়ীরা মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন। এসব মাছ পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় মৎস্য অবতরণ ঘাট ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবারও কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
বিএফডিসি রাঙ্গামাটির তথ্যমতে, কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ শিকার, বিপণন, পরিবহন ও সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধির সুযোগ দিতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছর গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও মাছের আকার প্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় এর মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়।
পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার ভোর থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ আবার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে জেলেরা নৌকা নিয়ে হ্রদে নামেন।
রাঙ্গামাটি জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, তিন মাসেরও বেশি সময় পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত। মাছ আহরণের প্রথম দিন থেকেই চাপিলা ও কাচকি মাছ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশির ভাগ মাছের আকার ছোট।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আরও কয়েক দিন মাছ আহরণ চলার পর হ্রদে ধরা পড়া মাছের সামগ্রিক আকার ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম জানিয়েছেন, কাপ্তাই হ্রদে মাছের পরিমাণ নিয়ে আপাতত কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে চলতি বছর মাছ আহরণের প্রথম দিনে পরিমাণও বেশি ছিল।
তিনি জানান, গত বছর মাছ আহরণের প্রথম দিনে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ ধরা পড়েছিল। বিপরীতে চলতি বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনেই ১৯২ মেট্রিক টন মাছ আহরণ হয়েছে।
তবে মাছের আকার ছোট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিএফডিসি রাঙ্গামাটির এই কর্মকর্তা বলেন, তারা হ্রদে মাছ আহরণ আরও ১৫ দিন বন্ধ রাখার পক্ষে ছিলেন। এতে মাছগুলো আরও কিছুটা বড় হওয়ার সুযোগ পেত।
কিন্তু দীর্ঘ সময় মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত কাপ্তাই হ্রদ খুলে দেওয়ার দাবি জানান। একই সময়ে হ্রদে পানির স্তরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে জেলেরা টানা তিন মাস কর্মহীন অবস্থায় ছিলেন।
সব দিক বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক।
নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ আহরণ শুরুর পর এখন কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক জেলে, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ঘাটে প্রতিদিন মাছ আসছে এবং সেগুলো দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে মাছের আকার ছোট হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে মাছের পরিমাণ, প্রজনন ও হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।