
ইবি রিপোর্ট
পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের পুঁজিবাজারকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড রাইট এন্টাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) হোল্ডার, স্টক ডিলার ও ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় পুঁজিবাজারে বেনামে কিংবা ভুয়া নামে কোনো হিসাব খোলা বা সেবা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি’ এবং ‘কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স’ বা গ্রাহক সম্পর্কে যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট অথবা জন্মসনদের মতো সরকারি ডেটাবেজ ব্যবহার করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ই-কেওয়াইসি নীতিমালাও অনুসরণ করতে হবে।
পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকের প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানি গ্রাহকের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার কে এবং কার ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে সেবা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ওই গ্রাহকের বিষয়ে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) দাখিল করতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি (পিইপি), দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে তহবিলের উৎস অনুসন্ধান করতে হবে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতি নেওয়ার পরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো লেনদেনে আর্থিক বা দৃশ্যমান বৈধ উদ্দেশ্য না থাকলে সেটি দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন রেজোল্যুশন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সত্তার ওপর কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের কোনো ব্যক্তি বা সত্তার হিসাব পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট লেনদেন বা পেমেন্ট অবিলম্বে স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে।
এ ছাড়া গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র এবং লেনদেনের তথ্য হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব কৌশল ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে। ওই কর্মকর্তাকে চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে মনোনীত করতে হবে।
একই সঙ্গে শাখা পর্যায়েও শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোর মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে নিয়মিত ঝুঁকি পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় প্রধান কার্যালয় ও শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউর এ নির্দেশনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সত্তার হিসাব শনাক্তকরণ এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিপালন কাঠামো আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।