• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > চাঁদের কক্ষপথে যাবে ৩.৫ টনের তুর্কি মহাকাশযান, চলবে ১৮ মাসের মিশন

চাঁদের কক্ষপথে যাবে ৩.৫ টনের তুর্কি মহাকাশযান, চলবে ১৮ মাসের মিশন

  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২১
  • ৩০

---

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজেদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের প্রথম চন্দ্রাভিযানের জন্য নির্ধারিত মহাকাশযানটির নির্মাণ, সংযোজন ও একত্রীকরণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তুরস্ক। এখন মহাকাশযানটিকে জটিল পরিবেশগত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাজির।

তিনি জানান, নির্মাণ ও একত্রীকরণের কাজ শেষ হওয়ার পর মহাকাশযানটিকে সিস্টেম-লেভেলের জটিল পরিবেশগত পরীক্ষার জন্য টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) ‘স্পেস সিস্টেমস ইনটিগ্রেশন অ্যান্ড টেস্ট সেন্টারে’ পাঠানো হয়েছে।

তুরস্কের লক্ষ্য, নিজস্ব উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশে চন্দ্রাভিযান পরিচালনাকারী বিশ্বের নবম দেশ এবং প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হওয়া।

প্রায় ৩ দশমিক ৫ টন ওজনের এই মহাকাশযানটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎক্ষেপণের পর প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ যাত্রা শেষে এটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার ওপরে একটি মেরু-বৃত্তাকার কক্ষপথে পৌঁছাবে।

মিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাকাশযানটি অন্তত তিন মাস চাঁদকে ঘিরে তথ্য সংগ্রহ করবে। তবে মহাকাশযানের কার্যক্ষমতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে মিশনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন মেহমেত ফাতিহ কাজির।

চন্দ্রাভিযানের সময় মহাকাশযানটি চাঁদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাবে। এর মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে সৌর বায়ুর মিথস্ক্রিয়া, চাঁদে পানি সৃষ্টির নেপথ্য প্রক্রিয়া, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপীয় বৈশিষ্ট্য অন্যতম।

এ ছাড়া সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চাঁদের পরিবেশে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও পরিমাপ করবে মহাকাশযানটি।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার নির্ধারিত কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত উপায়ে মহাকাশযানটির গতি কমিয়ে সেটিকে চাঁদের পৃষ্ঠে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তুরস্কের চন্দ্রাভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উপাদান হলো দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাইব্রিড প্রোপালশন সিস্টেম বা চালিকাশক্তি ব্যবস্থা।

মহাকাশযানটিকে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছানো থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথ ছেড়ে চন্দ্রপৃষ্ঠের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের অভিযাত্রায় এই সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।

মেহমেত ফাতিহ কাজির বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নিজস্ব ও জাতীয় সম্পদে নির্মিত একটি হাইব্রিড প্রোপালশন সিস্টেম গভীর মহাকাশে পরিচালনা করতে যাচ্ছে তুরস্ক।

তুরস্কের এই চন্দ্রাভিযান দেশটির নিজস্ব মহাকাশ ও প্রযুক্তি সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি চন্দ্র গবেষণায় নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত উৎক্ষেপণ সফল হলে মহাকাশ গবেষণায় তুরস্কের সক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17401 ,   Print Date & Time: Wednesday, 16 September 2026, 09:35:25 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh