
ইবি রিপোর্ট
অবকাঠামো, জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও চীন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।
সাক্ষাৎকালে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়ন। এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া রংপুরে প্রস্তাবিত ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি সহযোগিতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল চীন সফরের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেইজিংয়ের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত অংশীদার ও বন্ধু হিসেবে চীনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। অবকাঠামো, জ্বালানি, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
শ্যামা ওবায়েদ এ আমন্ত্রণকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়ায় চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎটি দুই দেশের চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক করিডোর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর উন্নয়ন, জ্বালানি, মানবসম্পদ ও নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।