
ইবি রিপোর্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও আপাতত দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচিত নেতারা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বর্তমান কমিটি আরও ৯০ দিন রুটিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
তবে এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে বর্তমান কমিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণা হলেই যেকোনো সময় দায়িত্ব ছাড়বেন বর্তমান কমিটির নেতারা।
২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর শিবির-সমর্থিত প্যানেল ডাকসুর দায়িত্ব নেয়।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ ৩৬৫ দিন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচিত নেতারা অতিরিক্ত ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
ইতোমধ্যে গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বর্তমান কমিটির নির্ধারিত এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে এখনো নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে আপাতত সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমান কমিটি রুটিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে এ সময়ে তারা নতুন কোনো নীতিগত বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না।
অর্থাৎ, নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ডাকসুর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব বর্তমান নেতারা পালন করবেন। কিন্তু বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাদের থাকবে না।
অন্যদিকে, নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ৯০ দিনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগও আর থাকবে না। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান কমিটির কার্যকারিতা শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফলে ডাকসুর বর্তমান কমিটির সামনে এখন দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—একদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রুটিন দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা।