• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > ইসির ঘোষিত সময়েই স্থানীয় নির্বাচন হবে—এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার

ইসির ঘোষিত সময়েই স্থানীয় নির্বাচন হবে—এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার

  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৫
  • ২২

---

 

ইবি রিপোর্ট

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। নির্বাচন কমিশন যে সময়সীমা বা টাইমলাইনের কথা জানিয়েছে, সেটিকে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে অন্যান্য নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন কমিশনকে এগোতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে কোনো ‘গ্যাপ’ বা মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা মতবিরোধ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি আজ যে কথা বলেছেন, আগেও একই কথা বলেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি ভিন্ন। সংবিধান অনুযায়ী সেখানে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দায়িত্ব ও এখতিয়ার রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নির্বাচন কমিশনের একক বা ‘এক্সক্লুসিভ’ এখতিয়ার হিসেবে তিনি কখনো বলেননি। এসব নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং আইন যেভাবে দায়িত্ব দেবে, নির্বাচন কমিশন সেভাবেই তা পালন করবে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে স্থানীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এভাবে নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে বলে তিনি বলতে চান না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা নেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসি ঘোষিত টাইমলাইন সরকার মেনে নেবে কি না—জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার কখন নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে মোটামুটি একটি ধারণা ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। সেই ধারণা অনুসরণ করেই সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে এবং এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সীমা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কমিশন যে তারিখ বা সময়সীমার কথা জানিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই নির্বাচন হবেই—এমন নয়। আবার নির্বাচন হবে না, সেটিও বলা হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আছে কি না—এসব বিষয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, বিষয়টিকে এখনই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের একতরফা বিজয়ের উদাহরণ তুলে ধরে এবার বিএনপি একই পথে হাঁটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দল সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল নয়, ব্যক্তিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে কে কোন দলের সঙ্গে যুক্ত, সেটি নির্বাচনে সরাসরি কোনো ইস্যু নয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে কোনো কোনো দল সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করতেও শুরু করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে বাধ্য। বিভিন্ন দল তাদের সমর্থিত প্রার্থী দেবে। একটি নতুন দলকে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করতে দেখা গেছে। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে—এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়।

একই রাজনৈতিক ধারার একাধিক ব্যক্তিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন মাত্রার প্রতিযোগিতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আগে স্থানীয় নির্বাচনে একই দলের দুই-তিনজন প্রার্থীও দাঁড়াতেন, পাশাপাশি অন্য দলের প্রার্থীরাও থাকতেন। ফলে একটি সিরিয়াস প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতো। দলীয় প্রতীক চালুর পর সেই জায়গায় সংকট তৈরি হয়েছিল। এবার আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17364 ,   Print Date & Time: Tuesday, 15 September 2026, 10:21:18 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh