• হোম > অর্থনীতি > বিদেশে ভাষা শেখাতে প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে সরকার

বিদেশে ভাষা শেখাতে প্রবাসীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে সরকার

  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩
  • ১১

---

ইবি রিপোর্ট

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। তবে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের বড় একটি অংশই অদক্ষ শ্রমিক। তাদের দক্ষতা বাড়ানোর অন্যতম উপায় হিসেবে শ্রমবাজারে চাহিদা থাকা দেশগুলোর ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বেশ কিছু অপ্রচলিত শ্রমবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা জানা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বিদেশে যাওয়ার পর ভাষা শিক্ষার খরচের জোগান দিতে এবার ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় বিদেশগামী কর্মীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল সরবরাহ করবে। সেই অর্থ দিয়ে যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা যাবেন, সেসব দেশের বেসিক ভাষা শেখানোর জন্য অর্থ দেওয়া হবে।

তবে ভাষা শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভাষা শেখার খরচের তুলনায় ঋণের সীমা বেশি হওয়ায় তহবিলের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপার্সন এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, ভাষা শিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা কেন প্রয়োজন হবে, সেটি বিবেচনা করা দরকার। তার মতে, বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াতেই এত অর্থ খরচ হওয়ার কথা নয়। সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার একটি সীমা নির্ধারণ করে দিলে সেটির অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকতে পারে। তাই বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে নির্ধারণ করা উচিত।

তবে ঋণের অর্থ যাতে নির্ধারিত কাজেই ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর শর্ত আরোপের কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম বলেন, জাপানে যেতে কোনো জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অর্থ বিদেশগামী কর্মীর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, জাপানে যে কলেজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভাষা শিক্ষার জন্য ভর্তি হবেন, সেই প্রতিষ্ঠানে সরাসরি টিউশন ফি পরিশোধ করবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এর ফলে ঋণের অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের সুযোগ কমবে বলে মনে করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ভাষা শিক্ষা ছাড়াও অভিবাসন খাতের উন্নয়নে নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে ভাষা দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাজারে ভাষাজ্ঞান কর্মীদের কাজের সুযোগ ও মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তবে নতুন এই ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17353 ,   Print Date & Time: Tuesday, 15 September 2026, 08:56:53 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh