• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > আজ থেকেই শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আজ থেকেই শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

শিল্পকারখানায় আজ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আশা করা হচ্ছে, আজ থেকে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় দেড় মাস আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

সোমবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

সভায় সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকারকে তাদের মেয়াদে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, তারা সভা থেকে স্বস্তি ও ভালো লাগার আশ্বাস নিয়ে বের হয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে আজ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এটি ব্যবসায়ী সমাজের জন্য বড় প্রাপ্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তবে সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, যেকোনো বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা এবং তা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

তিনি জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জি টু জি ভিত্তিতে আরও একটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

সভায় সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে এবং কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে চায়, তাও জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। সেজন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সভা শেষে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। তার মতে, এটিই বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও স্বস্তির খবর।

তিনি জানান, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর উপস্থাপনায় আগামী দিনে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির একটি পরিষ্কার রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেবল বর্তমান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যতে শিল্পের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাড়তি গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

ফজলুল হক বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন এবং সন্তোষজনক জবাব পেয়েছেন। সবাই একমত হয়েছেন যে বৈঠকে উপস্থাপিত পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি।

তিনি বলেন, যেকোনো পরিকল্পনায় কিছুটা তারতম্য হতে পারে। তবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসে স্বস্তি পেয়েছেন।

সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, সংকট কাটিয়ে আগামী দিনে দেশের শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতিতে ব্যবসায়ী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বন্দর ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মঙ্গলবার থেকেই মিল-কলকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে উন্নতি হবে এবং তারা স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তার মতে, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের স্বল্পমেয়াদি দুই বছর, মধ্যমেয়াদি পাঁচ বছর এবং দীর্ঘমেয়াদি ১০ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। সরকার বিশ্বাস করে, প্রতিটি সমস্যা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে—এমন বিষয়ও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা আরও বাড়াতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সভায় এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক, আইসিসি-বি সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, ফরেন চেম্বারের সিনিয়র ডিরেক্টর শামস জামান, ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বারের মোহাম্মদ আমিরুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালামসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এই মুহূর্তে জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার পূরণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17345 ,   Print Date & Time: Tuesday, 15 September 2026, 08:11:24 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh