• হোম > অর্থনীতি | দেশজুড়ে | বাণিজ্য > সরবরাহ সংকটে সাতক্ষীরায় আদার দাম ১৪০ টাকা কেজি

সরবরাহ সংকটে সাতক্ষীরায় আদার দাম ১৪০ টাকা কেজি

  • সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদা আমদানি বন্ধ থাকায় সাতক্ষীরার বাজারে মসলাপণ্যটির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আদার দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে এখনো ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদা আমদানি হয়নি। শুধু তাই নয়, কোরবানির ঈদের পর থেকে এ স্থলবন্দর দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী আদা আমদানি করেননি। তবে গতকাল একটি ট্রাকে করে আদা এসেছে বলে জানিয়েছেন ভোমরা কাস্টম হাউজের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মিজানুর।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ৯ হাজার ৭৩৯ টন আদা আমদানি হয়েছিল। এসব আদার আমদানি মূল্য ছিল ১১৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে ভারতীয় আদা আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়েও।

সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারে গতকাল খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। অথচ দুই-তিন সপ্তাহ আগেও একই পরিমাণ আদার দাম ছিল প্রায় ১২০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদা আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি আদার পাইকারি দাম ছিল ১০০ টাকা। বর্তমানে সেই আদা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। ফলে বাড়তি দামে পণ্যটি বিক্রি করতে হচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের।

এদিকে স্থানীয়ভাবে আদার উৎপাদনও হয়েছে। সাতক্ষীরার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮০৫ টন আদা উৎপাদন হয়েছে। এ সময় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে আদার আবাদ করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয় উৎপাদন বাজারের চাহিদা পূরণে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটি নির্ভর করছে সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর। আমদানি বন্ধ থাকায় বর্তমানে বাজারে সরবরাহের ঘাটতিই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আদার দাম বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাজারে আদার সরবরাহ বাড়লে পণ্যটির দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফলে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত আমদানি পুনরায় শুরু হলে বাজারে আদার সরবরাহ বাড়তে পারে। এতে বর্তমানে বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া মসলাপণ্যটির দামও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17288 ,   Print Date & Time: Monday, 14 September 2026, 08:35:15 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh