• হোম > অর্থনীতি | মতামত > অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা থেকে বাঁচাতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি: মাসরুর রিয়াজ

অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা থেকে বাঁচাতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি: মাসরুর রিয়াজ

  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৫
  • ১২

---

 

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির মডেল আগের মতো কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। রফতানি ও উৎপাদনে বৈচিত্র্যের ঘাটতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার ঝুঁকি থেকে বের করে আনতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ।

ব্যক্তি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নতুন সরকারের সংকট ও অগ্রাধিকারবিষয়ক যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ। ‘রিভাইভিং প্রাইভেট সেক্টর-লেড ইকোনমিক গ্রোথ: ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ ফেসিং নিউ গভর্নমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ড. এম মাসরুর রিয়াজ।

মাসরুর রিয়াজের মতে, বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল সত্তরের দশকের শেষ দিকে। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির দিকে যাত্রা থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনের দিকে এগোয়।

এর ফলে বাজার ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। জাতীয়করণ থেকে বেসরকারীকরণ, আর্থিক খাতে বেসরকারি ব্যাংকের বিস্তার, কৃষি ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ এবং আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা উদারীকরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির প্রথম ধাপ তৈরি হয়।

নব্বইয়ের দশকে ট্রেড লিবারালাইজেশন ও ভ্যাট চালুর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া আরও গভীর হয়। পরে আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বেশি বেসরকারি খাতনির্ভর বাজারমুখী কাঠামোয় পরিণত হয়।

২০০০-এর দশকের শুরুতে মোবাইল টেলিকম, ব্যাংকিং, এনবিএফআই ও বীমা খাতের বিস্তার ঘটে। একই সময়ে ওষুধ, চামড়া, পাদুকা ও এফএমসিজি খাতের বিকাশ শুরু হয়। এর ভিত্তিতে নব্বইয়ের দশক থেকে কভিড পর্যন্ত বাংলাদেশ গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক রফতানি। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজের মতো নীতিগত সুবিধা বাংলাদেশের পোশাক খাতকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে।

তবে এখন সেই মডেল এককভাবে পুরো অর্থনীতির ভার বহন করতে পারছে না বলে মনে করেন মাসরুর রিয়াজ। তার মতে, ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর অর্থনীতিতে বড় ধরনের নতুন বৈচিত্র্য আসেনি। গার্মেন্টস খাতের মধ্যেও পণ্য বৈচিত্র্য থেমে গেছে।

২০১১-১২ সালে মোট রফতানিতে গার্মেন্টসের অংশ ছিল ৭৩-৭৪ শতাংশ। বর্তমানে তা ৮২-৮৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আবার গার্মেন্টস রফতানির ভেতরেও মাত্র পাঁচটি পণ্য প্রায় ৭৫ শতাংশ রফতানি দখল করে আছে। বৈশ্বিক বাজারে যেখানে ম্যানমেড ফাইবারের ব্যবহার ৭০-৭৫ শতাংশের দিকে চলে গেছে, বাংলাদেশ সেখানে এখনো ৭০-৭৫ শতাংশ কটননির্ভর মডেলে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের রফতানি বাজারও মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যনির্ভর। এসব অঞ্চলের ওপর প্রায় ৭৫ শতাংশ নির্ভরতার কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন পিইবির চেয়ারম্যান। তার মতে, ২০১৪-১৫ সালের পর থেকে তৈরি পোশাক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার কমেছে। অথচ প্রতিবছর ২০-২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের সময় পার করছে। দেশের মানুষের মধ্যম বয়স প্রায় ২৮ বছর এবং ৬৮ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম। এই বিপুল জনশক্তির জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না গেলে জনমিতিক সুবিধাই ভবিষ্যতে বোঝায় পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

গার্মেন্টসের বাইরে এখনো কোনো একক খাত ২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি অতিক্রম করতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ বাজারেও মাত্র চার-পাঁচটি খাত ৭১ শতাংশ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আধিক্যের কারণে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষিতেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। জমির পরিমাণ কমলেও এবং জনসংখ্যা বাড়লেও সবজি ও শস্য উৎপাদনে দেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে এসেছে। কিন্তু কৃষি ও ম্যানুফ্যাকচারিং—দুই খাতের প্রবৃদ্ধিই এখন একটি সীমায় পৌঁছেছে।

এ কারণে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন মাসরুর রিয়াজ। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় রূপান্তর এবং বৈচিত্র্যময় বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ চাহিদার ধীরগতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, প্রায় তিন বছর ধরে অভ্যন্তরীণ চাহিদায় ধীরগতি রয়েছে।

২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমে এলেও বাজারে এর পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন মাসরুর রিয়াজ।

তার মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সাল থেকেই অনেকে জীবনযাত্রার মান ও ভোগের ক্ষেত্রে আপস করতে বাধ্য হয়েছেন এবং কেউ কেউ সঞ্চয় ভেঙে জীবনযাপন করছেন।

মূল্যস্ফীতি কমানো না গেলে অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থবিরতা কাটানো কঠিন হবে বলেও তিনি মনে করেন। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান না বাড়ায় মানুষের আয়ও বাড়ছে না। ফলে রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ভোগনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে না।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ও ব্যালান্স অব পেমেন্ট, জ্বালানি এবং ব্যাংকিং খাতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মাসরুর রিয়াজ।

বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো কারণে একটি বা দুটি ব্যাংক ধসে গিয়ে ব্যাংক রান শুরু হলে পুরো অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে নন-পারফর্মিং অ্যাসেটের (এনপিএল) হার ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। গত ১৮ মাসে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের উদ্যোগের ফলে সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে অনিচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণও বাড়তে পারে।

মামলাধীন প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে যুক্ত হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ অচল অবস্থায় আটকে রয়েছে।

ব্যাংকিং খাত থেকেই দেশের প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থায়ন আসে। ফলে খাতটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

অসচ্ছল ব্যাংকগুলো বন্ধ করার উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও সরকারি মালিকানায় নতুন ব্যাংক তৈরি করাকে ভুল পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন মাসরুর রিয়াজ। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পাশাপাশি সংকটে থাকা কয়েকটি এনবিএফআই দ্রুত বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তার সমন্বয়ের প্রস্তাবও দেন তিনি।

এনপিএল কমাতে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন মাসরুর রিয়াজ। এর মাধ্যমে খেলাপি সম্পদের একটি বড় অংশ কেনাবেচা, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সরকারি ঋণের ক্ষেত্রে বার্ষিক সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এতে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে সংকট তৈরি হতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তার মতে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধীর এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ হওয়ায় যথেচ্ছ ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই।

২০১৫-১৬ সাল থেকে দ্রুত ঋণ নেওয়ার ফলে ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। তাই সরকারি অর্থায়নে বড় অবকাঠামো প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে আগামী কয়েক বছর সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা পাওয়া এবং লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক খাতগুলোর ক্ষেত্রে করছাড় পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে কঠিন শর্তের স্বল্পমেয়াদি ঋণ পুনর্নির্ধারণ করে মেয়াদ বাড়ানো এবং সহজ শর্তের ঋণে রূপান্তরের কথা বলেন তিনি। নতুন ঋণের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন।

বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ কাঠামো ব্যবহার করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

সরকারের অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন পিইবির চেয়ারম্যান। তার মতে, বন্ড মার্কেটের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

সরকারের বিমানবন্দর, বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুর মতো আয়-উৎপাদনকারী সম্পদকে কাজে লাগিয়েও নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। পদ্মা বা যমুনা সেতুর মতো সম্পদ একত্র করে স্থানীয় বা বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে ‘অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটাইজেশন’ চালুর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। গত দুই বছরে বিনিয়োগ জিডিপির প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে উল্লেখ করেন মাসরুর রিয়াজ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং এফডিআইও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

তার মতে, বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব নয়। তাই বিনিয়োগ পরিবেশের সংস্কার ও বিনিয়োগ প্রচারে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রফতানি সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প ট্যারিফ, বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

সামনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন খাতগুলোকে কর্মসংস্থান ও রফতানির দায়িত্ব নেওয়ার উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করায় দক্ষতা উন্নয়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মাসরুর রিয়াজ। আগামী ১০-১৫ বছরের অর্থনৈতিক ভ্যালু চেইন বিবেচনায় নিয়ে একটি জাতীয় দক্ষতা কৌশল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান জোগানদাতা হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটের মতো বিকল্প অর্থায়নের উৎস গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তাকেও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পিইবির চেয়ারম্যান। তার মতে, ২০১১ সালের পর থেকে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, অদক্ষতা ও ভর্তুকির চাপ রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও দেশের অগ্রগতি সীমিত।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে নিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক ও দায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ, রফতানি বৈচিত্র্য, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাত এবং জ্বালানি নিরাপত্তা—এই সাতটি ক্ষেত্রে সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মাসরুর রিয়াজ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17270 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 03:22:32 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh