
প্রবা প্রতিবেদক
গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে শিল্প ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এ লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ পাঁচটি উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় যবিপ্রবির প্রদর্শিত উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি। এসব উদ্ভাবন দেখতে গবেষক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনগুলোকে শিল্প পর্যায়ে নেওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। গবেষণাগারে তৈরি পণ্য যেন সরাসরি বাজারে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সরকারের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান জানান, যবিপ্রবি মেলায় মোট পাঁচটি উদ্ভাবন নিয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো-ইউরিয়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমতি নিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেলায় যবিপ্রবির স্টলে বিভিন্ন উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে অনেক গবেষক ভিড় করছেন।
ন্যানো-ইউরিয়ার উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, দেশের কৃষির কথা বিবেচনায় নিয়ে ন্যানো-ইউরিয়া উদ্ভাবন করা হয়েছে। মেলায় প্রধানমন্ত্রী পণ্যটি দেখেছেন এবং দেশের কৃষকদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এটিকে দেশীয় পণ্য ও চমৎকার উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন বিভাগের ছয়জন শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের অংশগ্রহণে মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।