
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নেবে না বাহরাইন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামোয় ইরানের হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। হামলার পরিণতি নিয়ে নীরব থাকা কিংবা ‘তুষ্টির নীতি’ গ্রহণ করেও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলা এবং বাহরাইনে একটি অ্যামোনিয়া ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলার কথা উল্লেখ করেছে। দেশটির দাবি, এসব ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি এখনো রয়েছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে কোনো অর্থবহ সংলাপ হতে পারে না বলেও জানিয়েছে বাহরাইন।
দেশটি জানিয়েছে, ওমানকে তাদের এই অবস্থানের কথা সরকারি মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাহরাইন স্পষ্ট করেছে, তারা সংলাপের পথ বন্ধ করতে চায় না এবং ওমানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেয়।
ওমানে সোমবার উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরান ও ইরাকের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বাহরাইনের অবস্থানের কারণে বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাহরাইন জানিয়েছে, ২০১৬ সালে একটি আঞ্চলিক সংকটের সময় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল তারা। এবার দেশটি বলেছে, হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের বৈষম্য, ফি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই উন্মুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ ব্যবস্থায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশকেই যুক্ত করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাহরাইন চারটি শর্তও তুলে ধরেছে। এগুলো হলো—হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা, হামলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং কোনো দেশের ভূখণ্ড অন্য দেশে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার না করা। পাশাপাশি বিরোধগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের দাবিও জানিয়েছে দেশটি।
বাহরাইনের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ভবিষ্যতে যে কোনো ব্যবস্থা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী হতে হবে। এ ছাড়া এ ধরনের ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে দেশটি।
তবে বাহরাইন বলেছে, তারা শান্তির পথ বন্ধ করছে না। তাদের অবস্থান হলো, ন্যায়ের বিনিময়ে শান্তি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি কেবল সাময়িক বিরতি তৈরি করতে পারে, যার পরিণতিতে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা থাকে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাহরাইনের শর্ত ও অবস্থান এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।