• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > বাব আল-মান্দেব সংকটে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা

বাব আল-মান্দেব সংকটে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা

  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০
  • ২৫

---

 

ইবি রিপোর্ট

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাত ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিকল্প নৌপথ হিসেবে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের রুটের গুরুত্ব সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছিল। এখন সেই পথও ঝুঁকির মুখে পড়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লোহিত সাগরে সংঘাত আরও তীব্র হলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ বা উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যেতে হতে পারে। এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এশিয়া থেকে ইউরোপের এই দীর্ঘ বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে ট্রানজিট লিড টাইম ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিমা ব্যয় বাড়ার কারণে জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট রেট ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা ও বাধা দিতে শুরু করে হুথিরা।

চলতি বছর ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে সৌদি স্বার্থকে লক্ষ্য করে হুথিরা লোহিত সাগরে আবারও হামলা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত অগ্রসর হয়ে হুথি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের রুট ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক করিডোর। ফলে এই রুটে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে এর প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য ও শিপিং খাতের তথ্য বিশ্লেষণ এবং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে দক্ষিণ কোরিয়াগামী জাহাজগুলো বিকল্প পথে ঘুরে গেলে যাত্রার সময় ২৪ দিন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৪ দিনে পৌঁছাতে পারে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ও দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ফজলুল হক বলেন, লোহিত সাগর ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ।

তার মতে, এই পথ ব্যাহত হলে জাহাজগুলোকে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে। এতে একদিকে যেমন পণ্য পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে, অন্যদিকে পরিবহন বা ফ্রেইট খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির বিধিনিষেধের পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানিও বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ খান বলেন, লোহিত সাগরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তার মতে, এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্যবাহী চালান পৌঁছাতে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি, জাহাজের বিমা এবং অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হলে জাহাজ ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বাফার সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, লোহিত সাগরের বর্তমান পরিস্থিতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হলেও মেইনলাইন অপারেটরদের (এমএলও) পক্ষ থেকে তখন পর্যন্ত ফ্রেইট ভাড়া বাড়ানো বা জাহাজের শিডিউল পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন আসতে পারে।

২০২৩ সালে বিদেশি জাহাজে হুথিদের একাধিক হামলার পর থেকেই মেইনলাইন অপারেটররা লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়। এর পর থেকে অধিকাংশ কনটেইনারবাহী জাহাজ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে পরিচালনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কনটেইনার ও লজিস্টিকস তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সোজেসের সেপ্টেম্বরের ইউরোপ কনটেইনার মার্কেট আপডেট অনুযায়ী, কেপ অব গুড হোপ হয়ে জাহাজ চলাচলের কারণে বৈশ্বিক কনটেইনার সক্ষমতার প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ অতিরিক্ত পথে আটকে থাকছে। এর পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ থেকে ২৪ লাখ টিইইউএস কনটেইনার ধারণক্ষমতার সমতুল্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি শীর্ষস্থানীয় মেইনলাইন অপারেটরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, গত তিন বছর ধরেই তারা লোহিত সাগর এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট রেটে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক ফ্রেইট বা পরিবহন খরচ বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক রপ্তানিকারকরা।

এফওবি ভিত্তিক রপ্তানিতে সাধারণত পণ্য জাহাজে তুলে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফ্রেইটের মূল খরচ বিদেশি ক্রেতারা বহন করেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ক্রেতারা সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এর ফলে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু বলেন, ছোট ও মাঝারি আকারের রপ্তানিকারকরা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন।

তিনি বলেন, জাহাজ ভাড়া বাড়লে ক্রেতারা বাড়তি খরচের একটি অংশ সরবরাহকারীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে অর্ডার হারানোর আশঙ্কায় ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা বাড়তি লজিস্টিকস খরচ নিজেদের ওপর নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হতে পারে ল্যান্ডেড ডিউটি পেইড বা এলডিপি পদ্ধতিতে রপ্তানি করা ব্যবসায়ীদের ওপর। এ ব্যবস্থায় ক্রেতার গুদাম পর্যন্ত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পুরো দায়িত্ব ও ব্যয় বিক্রেতা বা রপ্তানিকারকের ওপর থাকে।

বিজিএমইএর এই নেতার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ চালান এলডিপি পদ্ধতিতে রপ্তানি হয়। ফলে এ ব্যবস্থার আওতায় রপ্তানি করা কারখানাগুলোকে বাড়তি জাহাজ ভাড়ার বড় অংশ বা পুরোটা নিজেদের বহন করতে হতে পারে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে একই সময়ে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির খরচেও পড়তে পারে।

গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৬১ ডলারে উঠে যায়। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৮৭ দশমিক ০৭ ডলার।

বাংলাদেশের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান উৎস মুরবান ক্রুডের দামও এক মাসের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি এশিয়ার এলএনজি বেঞ্চমার্ক জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএমের দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৮২ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেলের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নতুন পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য, বিশেষ করে ডিজেলের জাতীয় মজুদ দ্রুত বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, বিশ্বের প্রধান তেল পরিবহন পথগুলো একসঙ্গে অচল হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশের এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দ্রুত মজুদ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বাজারে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ১৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত এসব জ্বালানির প্রায় ৮৯ শতাংশই এশিয়ার বাজারে যায়।

হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হওয়ার পর কিছু জ্বালানি চালানের জন্য বিকল্প হিসেবে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার করা হচ্ছিল। ফলে এই বিকল্প পথেও যদি বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ আরও বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘পোর্টওয়াচ’ প্ল্যাটফর্মের তথ্যমতে, এপ্রিল ও মে মাসে সৌদি আরবের তেলের কার্গো চালান আগের বছরের ৪ কোটি ৭৫ লাখ টন থেকে কমে ৬৩ লাখ টনে নেমে আসে। বিপরীতে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ২ কোটি ৯৬ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টনে দাঁড়ায়। এই প্রবাহ হরমুজ প্রণালিতে তৈরি ঘাটতির প্রায় ৬১ শতাংশ পূরণ করেছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ২ কোটি ১৬ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাত্র ৪৯ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।

ফলে হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও যদি জাহাজ চলাচল বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বাড়তে পারে জাহাজ ভাড়া, পণ্য পৌঁছানোর সময় ও জ্বালানি আমদানির ব্যয়—যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তা পর্যায়েও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17210 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 05:46:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh