
ইবি রিপোর্ট
গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে ১০০ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে চার কোটি টাকা ‘আপ্যায়ন’ ব্যয় দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই কয়েকজন কর্মকর্তার হিসাবে প্রণোদনার নামে অর্থ জমা ও পরে তা উত্তোলন করা হয়। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরবর্তী ব্যবস্থা ঠিক করতে রোববার বিশেষ পর্ষদ সভা ডেকেছে ব্যাংকটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়দুল হক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশনার আলোকে ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেনকে বরখাস্ত করা হবে।
এর আগে গত ৬ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চার কোটি টাকার ‘আপ্যায়ন’ ব্যয়ের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আমানত আনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় দেখিয়ে ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তার হিসাবে প্রণোদনা হিসেবে চার কোটি টাকা জমা করা হয়। পরে ওই অর্থ আবার তুলে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উজ্জীবন’ নামের আমানত সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় ওই অর্থ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছিল না। গত ৪ জুন নয়টি চেকের মাধ্যমে তিন কোটি চার লাখ টাকা এবং ৭ জুন পাঁচটি চেকের মাধ্যমে ৯৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস মো. হামিদুর রহমান ও ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেন অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে যান। দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশেই তিনি টাকা উত্তরা ও গুলশানের ক্লাবে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে কার কাছে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, অনুমোদন ছাড়া অর্থ জমা ও উত্তোলনের দায় ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বর্তায়। এ ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আমানত রাখার সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ সোহেল হাসান কোনো ধরনের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অর্থ ব্যবস্থাপনায় এই অনিয়মের দায় নির্ধারণ ও পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখন বিশেষ পর্ষদ সভার আলোচনায় আসছে।