
ইবি প্রতিবেদক
বালাইনাশক আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও বাজারজাতকরণে একই খাতে একাধিক সংগঠন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে—এমন যুক্তিতে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) লাইসেন্স বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, দুটি সংগঠনের লক্ষ্য একই। বামার অধিকাংশ সদস্য আগে বিসিপিএর সদস্য ছিলেন এবং তাঁদের অনেকে এখনো ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বিসিপিএর সদস্যসংখ্যা ১ হাজার ২৩০ জন। অন্যদিকে বামার সদস্যসংখ্যা ২০ জন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, একই খাতে একাধিক সংগঠন থাকায় বালাইনাশক আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও বাজারজাতকরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। তাই এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের একটি সংগঠনের আওতায় থাকা যুক্তিযুক্ত। এ কারণেই বামার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ৮ ধারা এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ১০ বিধির ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
তবে মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন বামার প্রেসিডেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, আমদানিকারক ও উৎপাদকদের জন্য একই সংগঠন থাকা যৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন মূলত আমদানিকারকদের সংগঠন। অতীতে সংগঠনটি দেশে এগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আমদানিকে উৎসাহিত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, আমদানিকারকেরা নিজেদের ব্যবসার ক্ষতি করে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবেন না। তাই উৎপাদক ও ম্যানুফ্যাকচারারদের আলাদা সংগঠন একীভূত করা যৌক্তিক নয়। পাশাপাশি বাণিজ্য সংগঠন আইনের ৮ ও ৫ ধারা মিলিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা পর্যালোচনার কথাও বলেন তিনি।
বাংলাদেশে এগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে আমদানিকারক ও বর্তমান ম্যানুফ্যাকচারাররা বিসিপিএর সদস্য ছিলেন। পরে কয়েকজন সদস্য উৎপাদনে গেলে পৃথক সংগঠনের উদ্যোগ নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের আগস্টে বামা লাইসেন্স পায়। এ নিয়ে গত তিন বছর ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছিল ম্যানুফ্যাকচারাররা।
এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এগ্রোকেমিক্যালের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি নীতি আদেশে কাঁচামালের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল কান্ট্রি, সিঙ্গেল সোর্স’ ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। ফলে এগ্রোকেমিক্যাল খাতে সংগঠন নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি উৎপাদকদের নীতিগত অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে।