
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)।
বৃহস্পতিবার বিসিসিসিআইর সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।
বৈঠকে বিসিসিসিআইর পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অপব্যবহারের বিষয়টিকে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আনা পণ্য অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হলে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে না, একই সঙ্গে চীনসহ বিদেশি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদেরও নিরুৎসাহিত করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা পণ্যের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছে বিসিসিসিআই।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠান ও প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমান ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশি পণ্যের চীনা বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি বাড়াতে চীনের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিসিসিআই।
এ ছাড়া চীনের বড় বড় বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিসিসিসিআইর অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে কারিগরি এবং কারিগরি শিক্ষাভিত্তিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন বিসিসিসিআই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
তারা জানান, ওই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের আরও সুযোগ রয়েছে। চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি বাড়াতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বিসিসিসিআইর পক্ষ থেকে চীনে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিসিসিসিআইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জিংচাও, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ জেড এম আজিজুর রহমান, মহাসচিব জামিলুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যায়ে নিতে বেসরকারি খাতের এসব প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিসিসিসিআই। বিশেষ করে রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে উঠে আসে।