• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে | বাংলাদেশ > কয়লা আমদানির দরপত্রে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

কয়লা আমদানির দরপত্রে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৩
  • ৩০

---

ইবি রিপোর্ট

 

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৮০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির দরপত্র ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ রাখা হয়নি এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দরদাতা। একই সঙ্গে কয়লার উৎস হিসেবে দেখানো খনির প্রকৃত সক্ষমতা ও সরবরাহের সামর্থ্য স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির (বিআইএফপিসিএল) বিরুদ্ধে দরপত্রের শর্ত ব্যবহারে দ্বিমুখী নীতি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগও এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

শিল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব অংশগ্রহণকারীর কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা একই মানদণ্ডে যাচাই করা হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, একটি বিশেষ পক্ষকে বাড়তি সুবিধা দিতে অন্য প্রতিযোগীদের প্রস্তাবে ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে। এর মধ্যে লিয়্যানেক্স, মোহিত মিনারেলস ও লোশে শিপিংকে তুলনামূলক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, কয়লা সরবরাহের পূর্ব অভিজ্ঞতা, কারিগরি সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সামর্থ্যের দিক থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লিয়্যানেক্সের ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় কারিগরি নথিপত্র জমা দিলেও তাদের প্রস্তাবে জোর করে ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। দরপত্রের মূল্যায়নে এমন আচরণ হয়ে থাকলে তা প্রতিযোগিতার সমান পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কয়লার উৎস যাচাই নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। দরদাতাদের দেওয়া ‘মাইন এমওইউ’ বা খনি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক শুধু কাগজপত্র হিসেবে গ্রহণ না করে সরাসরি খনির মালিক বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাবিত খনিগুলোর মালিকানা, দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা, কয়লার মান এবং নিয়মিত সরবরাহের সামর্থ্য যাচাইয়ের দাবি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ক্ষেত্রে খনি কর্তৃপক্ষের সরকারি ই-মেইল ও যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ কাগজপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দেখানো হলেও বাস্তবে নির্ধারিত পরিমাণ কয়লা সরবরাহের সামর্থ্য রয়েছে কি না, সেটিই চুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, অক্ষম কোনো প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কয়লা সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। এতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী দরদাতা। তাঁদের দাবি, কোনো একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে যোগ্য প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন অভিযোগ সত্য হলে তা আন্তর্জাতিক দরপত্রের স্বচ্ছতা ও মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

এস এম জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল। এই সম্পর্ককে ব্যবহার করে দরপত্রের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই অবশ্য হয়নি।

এ অবস্থায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন কয়লার এই বড় চুক্তির মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি দরদাতার কারিগরি, আর্থিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা একই মানদণ্ডে যাচাই হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বর্তমান দরপত্র বাতিল করে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের দাবিও উঠেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17198 ,   Print Date & Time: Saturday, 12 September 2026, 11:15:50 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh