• হোম > জাতীয় | রাজনীতি > বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিতে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা রিজভীর

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিতে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা রিজভীর

  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৪
  • ১৪

---

 

ইবি রিপোর্ট

দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১২ দলীয় জোট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় রিজভী বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস সংকট রয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এসব সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, একটির পর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এর পেছনে নাশকতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজকে একটার পর একটা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে। এগুলো স্যাবোটাজ কি না, সে বিষয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলেই সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে।’

তার বক্তব্যে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সংকটের পেছনে কোনো পরিকল্পিত তৎপরতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।

রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে অতীতেও দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার বিচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানান।

রিজভীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজকে এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

১২ দলীয় জোটের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জোটটি সবসময় দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের স্বার্থে জোটটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংসদে এবং সংসদের বাইরে সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সেই সমালোচনা যেন দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম না করে, সেদিকেও গুরুত্ব দেন তিনি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রকামী মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। তবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কেউ যেন সীমালঙ্ঘন না করেন, সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

ইসলামী উত্তরাধিকার আইন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানরা তাদের বাবা-মায়ের যথাযথ খোঁজখবর রাখেন না।

এ বিষয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেন যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।

সভায় ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17192 ,   Print Date & Time: Saturday, 12 September 2026, 11:11:15 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh