• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > দুই হাত ছাড়াই ২০ কিমি সাঁতার

দুই হাত ছাড়াই ২০ কিমি সাঁতার

  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৩
  • ১৩

---

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার কেরি–লি গোকেল। জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবে এ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। শুধু পায়ের সাহায্যে সাঁতার কেটে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড।

২০২৫ সালের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ইয়েপুন উপকূলের কাছে অবস্থিত গ্রেট কেপেল দ্বীপের চারপাশে সাঁতার কাটেন গোকেল। দ্বীপটির স্থানীয় নাম ওয়পা। সব মিলিয়ে তিনি সাঁতার কাটেন ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিবন্ধিতা শ্রেণি এএ৩–এর আওতায় এটিই এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম সাঁতার

এএ৩ শ্রেণিতে সাঁতারুরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভেসে থাকার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন। নিরাপত্তার প্রয়োজনে সহায়তাও নেওয়া যায়। গোকেল সাঁতার কাটার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরেক সাঁতারু জোয়েপ বুইস। বিপদে পড়লে সহায়তা করার পাশাপাশি পানির মধ্যে তাঁকে খাবার ও পানীয় দেওয়ার কাজ করেছেন তিনি।

দুই হাত না থাকায় গোকেলকে চিত হয়ে সাঁতার কাটতে হয়। পানিতে এগিয়ে যাওয়া ও ভেসে থাকার জন্য তিনি শুধু পা ব্যবহার করেন। অ্যামেলিয়া নামের বংশগত একটি শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি দুই হাত ছাড়াই জন্মেছেন।

গোকেল কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকারের অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক দপ্তরে চাকরি করেন। ২০০৫ সালে তাঁর সাঁতারের প্রশিক্ষক জেমস তাঁকে উন্মুক্ত জলাধারে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন। এর আগে কয়েক বছর স্থানীয় সুইমিংপুলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই বছর জুনে প্রথমবার উন্মুক্ত জলাধারে এক কিলোমিটার সাঁতার কাটেন। এর পর থেকে খোলা পানিতে সাঁতারের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে।

পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে সাঁতারের দূরত্ব বাড়ান গোকেল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে দুটি ১০ কিলোমিটার সাঁতারে অংশ নেন তিনি। ২০২৪ সালে স্বামী পলের সঙ্গে গ্রেট কেপেল দ্বীপের চারপাশে একটি সাঁতারে অংশ নেন। ওই সাঁতারে দুজন পালা করে এক কিলোমিটার করে সাঁতার কাটেন।

তবে ২০২৫ সালের ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটারের সাঁতারটি ছিল এককভাবে তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিনটি ১০ কিলোমিটার সাঁতার ও ১৫ কিলোমিটারের একটি প্রশিক্ষণ সাঁতার সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।

গোকেল বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকলেও ভালো পরিকল্পনা, কঠোর প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কারণে দীর্ঘ সাঁতারটি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে তাঁর কাছে। কঠিন সময়ে নিজের ওপর বিশ্বাস ও দৃঢ়তাও তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে।


তথ্যসূত্র:

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17175 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 03:40:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh