
ইবি রিপোর্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (আন্ডারগ্রাজুয়েট) প্রোগ্রামে গত পাঁচ বছরে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানরা। ২০২১, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী পরিবারের শিক্ষার্থীরাই সংখ্যায় এগিয়ে ছিলেন। ব্যতিক্রম ছিল ২০২৪ সাল, যখন বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারের শিক্ষার্থীরা শীর্ষে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
গত পাঁচ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ৩১ হাজার ৩৬১ জন শিক্ষার্থীর পিতার পেশাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, কৃষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহস্থালির কাজ, সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সন্তানদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৫৮৩ জনের পিতার পেশা ছিল ব্যবসা। এরপর কৃষক ৯০৯ জন, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ৮৪৮ জন, সরকারি (বেসামরিক) কর্মকর্তা-কর্মচারী ৬৮৮ জন এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ৪৯৯ জন। এছাড়া গৃহস্থালির কাজ (হাউজওয়ার্ক) ২৯১ জন, সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ২৭৭ জন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন ১১৪ জনের পিতা।
২০২২ সালেও ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানরা সংখ্যায় এগিয়ে ছিলেন। ওই বছর ১ হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থীর পিতার পেশা ছিল ব্যবসা। এরপর গৃহস্থালির কাজ (হাউজওয়ার্ক) ৬৪৮ জন, সরকারি (বেসামরিক) কর্মকর্তা-কর্মচারী ৬১১ জন এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ৫২৯ জন।
২০২৩ সালে ব্যবসায়ী পরিবারের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২৪ জন। এরপর কৃষক ৭৫২ জন, বেসরকারি চাকরিজীবী ৬৭৫ জন এবং সরকারি (বেসামরিক) কর্মকর্তা-কর্মচারী ৫৬২ জন। সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ছিলেন ৩১৪ জনের পিতা।
২০২৪ সালে চিত্রে পরিবর্তন আসে। ওই বছর বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারের ৭৫০-এর বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ব্যবসায়ী পরিবারের শিক্ষার্থী ছিলেন ৯৬ জন। এরপর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ৬৯১ জন এবং গৃহস্থালির কাজ (হাউজওয়ার্ক) ৫৯৬ জন।
২০২৫ সালে আবারও ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানরা শীর্ষে ওঠেন। ওই বছর ১ হাজার ৩১৪ জনের পিতার পেশা ছিল ব্যবসা। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারের শিক্ষার্থীরা, সংখ্যা ৭২৬ জন। এছাড়া গৃহস্থালির কাজ ৬৩৯ জন এবং কৃষক ৬২১ জনের পেশা ছিল।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘ঢাবিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া পিতার মাসিক আয়ের বিবরণীর তথ্যগুলোতে ভুল রয়েছে। হতে পারে ব্যবসায় বলা এখানে অনেকের পিতাই কৃষক। এছাড়া, অনেক শিক্ষার্থী আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পিতার আয় কম বলে উল্লেখ করে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইনক্লুসিভ যায়গা। যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তানরা পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। আর এটির মূল কারণ হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ত্রুটিহীন ভর্তি পরীক্ষাব্যবস্থা।’