• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > নবম পে স্কেলে অনলাইনেই নির্ধারণ হবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

নবম পে স্কেলে অনলাইনেই নির্ধারণ হবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪০
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত ভেটিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো কার্যকরের বিস্তারিত বিধান সাতটি পৃথক এসআরওর মাধ্যমে জারি করা হবে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে এবার ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম আইবাস প্লাস প্লাসে (iBAS++) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হলে সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ করবে। এর ফলে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন গ্রেডে থাকবেন এবং তার মূল বেতন কত হবে, তা অনলাইনেই নির্ধারণ ও যাচাই করা যাবে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির তথ্য আইবাস++-এ সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে পদ, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য। সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর সফটওয়্যার নতুন পে স্কেল অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা নির্ধারণ করবে।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বিষয়গুলো কার্যকর করা হবে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীর কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান পৃথক সাতটি এসআরওতে নির্ধারণ করা হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন পে স্কেল কার্যকরের নিয়ম আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের ফলে প্রচলিত কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ায় বারবার বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি চাকরিজীবীরা অনলাইনে নিজেদের বেতন কাঠামোয় অবস্থান এবং প্রাপ্যতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থায় তথ্যনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে গিয়ে বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনও কমবে। একই সঙ্গে হিসাবের ভুল, একই সুবিধা একাধিকবার পাওয়ার সুযোগ এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পরও বেতন বিল, জিপিএফ, সরকারি ঋণ, আয়কর হিসাব এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে বেতন ও পেনশন দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো আইবাস++-এর আওতায় বহাল থাকবে।

প্রস্তাবিত জাতীয় পে স্কেলে বর্তমানে থাকা ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। তবে প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট এসআরও জারির পরই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর কাঠামোগত পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17151 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 10:12:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh