• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > ছয় মাসে সরকারি খাদ্য মজুত বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ টন

ছয় মাসে সরকারি খাদ্য মজুত বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ টন

  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত গত ছয় মাসে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ টন বেড়েছে। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টন। ৯ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টনে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুতের মধ্যে চাল ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ টন এবং ধান ৩৪ হাজার ৭০ টন। ফ্লোটিং মজুতসহ মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টন। এর মধ্যে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে গম রয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৩ টন।

খাদ্য মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আগে দেশে সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ টন। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, আগে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ টন থাকলেও বর্তমানে তা ২৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এদিকে নিরাপদ খাদ্য মজুতের সীমাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্য মজুতকে নিরাপদ সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ায় এখন এই সীমা ১৬ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৪ আগস্ট চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার টন। সে তুলনায় বর্তমানে মজুত বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ টন। ২০২৪ সালে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ টন। সে হিসাবে বর্তমান মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহেও অগ্রগতি হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ টন এবং আতপ চাল ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ টন। পাশাপাশি ৫২৩ টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে।

খাদ্যশস্যের মজুত শক্তিশালী রাখতে আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ টন আমদানি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুত রয়েছে। এই মজুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সমন্বয়ে সরকার কাজ করছে। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তবে গমের বিকল্প হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, খাদ্য নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সচল রাখতে গুদাম থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17123 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 05:46:17 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh