
ইবি রিপোর্ট
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এসব চুক্তির বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হচ্ছে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন চুক্তি করা হয়েছিল বলে সরকার মনে করছে। এসব চুক্তি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একই সময়ে এলে ‘বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে’—এ ধরনের দেশের স্বার্থবিরোধী অসংখ্য চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার পরই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও কথা বলেন নুরুল ইসলাম মনি। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি। সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।
তিনি জানান, এমপি-মন্ত্রীদের রসিদ ছাড়া বিল পরিশোধ না করা, সাধারণ পোশাক ও জীবনযাপনে উৎসাহ দেওয়া এবং সরকারি প্রটোকল কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি খাবারের ব্যয় কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান নুরুল ইসলাম মনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বছরে সরকারি খাবারের পেছনে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এখন সেই ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে।
তার অভিযোগ, বিগত সরকার আদানি গ্রুপের সঙ্গে অসম চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৭ শতাংশ বৈদেশিক নির্ভরতা তৈরি করেছিল। বিদ্যুৎ না পেলেও বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়েও সমালোচনা করেন চিফ হুইপ।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমাতে কাজ করছে। দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং স্বাবলম্বী করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।