
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দীর্ঘ মন্দার পর ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগলেও দেশের শেয়ারবাজারে আবারও দরপতনের চাপ বেড়েছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা পতনের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স নেমে গেছে প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে অবশ্য বাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। লেনদেন শুরুর পর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে। প্রথম তিন ঘণ্টা সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে পতনের ধারা কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তবে শেষ আধঘণ্টায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমতে থাকায় দিন শেষে পতনেই লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩০টির দাম কমেছে এবং ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ৬৭টির দাম বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে ছয়টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং তিনটির অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ গ্রুপের ২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, ৫৮টির কমেছে এবং ৩১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র একটির।
দরপতনের প্রভাবে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ৮ জুনের পর সূচকটি সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। ওই দিন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৪৮২ পয়েন্ট। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক সাত পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৫ এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক পাঁচ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে ডিএসইএক্স নেমেছিল ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়। এর প্রভাবে সূচক একপর্যায়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে যায়। এতে দীর্ঘদিনের লোকসান কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক পতনে সেই স্বস্তি আবার চাপের মুখে পড়েছে। প্রায় এক মাস ধরে বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের লোকসানও বাড়ছে।
সূচক কমলেও বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ছিল এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার, যার ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এরপর শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন ছিল যথাক্রমে ১৯ কোটি ১৩ লাখ ও ১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির দাম বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এক পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেন নেমে এসেছে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকায়, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ফলে দুই বাজারেই এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে দীর্ঘস্থায়ী পতনের ধারা থেকে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা।