
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এনার্জিস থেকে প্রতিমাসে ২ কার্গো করে আগামী ৯ মাসে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার। প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে বাংলাদেশ আগ্রহী হলে কোম্পানিটি থেকে আরও বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারবে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি— টোটাল এনার্জিস থেকে এলএনজি আমদানির এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে এসব এলএনজি আমদানি করবে সরকার।
প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমসিএফটির দাম পড়বে এশিয়ার স্পট মার্কেটের দাম হিসেবে পরিচিত জাপান –কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) প্লাস ০.০৬ মার্কিন ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভর থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে, তার মূল্যের তুলনায় কিছুটা কম।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষিতে অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য টোটাল এনার্জিস এর নিকট হতে—চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী বছরেরে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ২ কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি বা প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে আরও অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।”
কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি থাকলেও—ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশ দু’টি চুক্তি অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দরে এলএনজি আমদানি করার পাশাপাশি বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভর থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানিতে দাম ধরা হয়েছে দশমিক ০৮৭৫ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ।