
ইবি রিপোর্ট
হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হামের টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও যখন কোনো এলাকায় সংক্রমণ অব্যাহত থাকে, তখন সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর অংশ হিসেবে নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা জোরদার
এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়েই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে রোগীদের প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা স্থানীয় পর্যায়েই নিশ্চিত করে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের দায়িত্ব ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। এজন্য জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় নতুন করে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায় থেকে চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।