• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৮
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাজা শেষ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে খালাস দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বিদ্রোহের ঘটনায় চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনরায় চাকুরিতে ফেরার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মো. ফজলে হুদা জানতে চান, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত সদস্যদের অনেকে সাজা ভোগ করে বের হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ আমলের মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এবং সাজা শেষ হওয়া সদস্যদের দ্রুত খালাসের পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাগুলো ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা থাকলে সেটি যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কেউ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা অযৌক্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে অভিযোগের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কারাগার থেকে খালাস পাবেন।

অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের আবার বিজিবিতে চাকুরি দেওয়া হবে কি না।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। তাই চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন ইউনিটের তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্তকরণের পর ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দেওয়া হয়েছে। তাই চাকুরিচ্যুত সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকুরিচ্যুত সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা করা হয়।

হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। বর্তমানে ওই মামলার আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরক মামলার বিচারকার্যও নিম্ন আদালতে চলমান।

এ অবস্থায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় এসব মামলায় আসামিভুক্ত চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17021 ,   Print Date & Time: Thursday, 10 September 2026, 01:10:06 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh