• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ

ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ

  • বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৫
  • ৮

---

ইবি রিপোর্ট

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসার প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২০ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসের পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেশি এসেছে। এর মধ্যে আগস্টে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৭৫ কোটি ডলার। আগের বছরের মার্চে এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার। সে হিসাবে এ বছরের মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এপ্রিলে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৩ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসে প্রবাসী আয় ছিল এর তুলনায় কম। এ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মে মাসে প্রবাসী আয় আরও বেড়ে ৩৪৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আগের বছরের মে মাসের তুলনায় এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে জুনে প্রবাসী আয়ে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। ওই মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ডলার। আগের বছরের জুনে প্রবাসী আয় ছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার আয় বাড়ার ধারা ফিরে আসে। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসে এই পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে আগস্টে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য ইতিবাচক। তার মতে, বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে।’

তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করার সরকারি উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। প্রবাসী আয় বাড়াতে এবং তাদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

আরিফ হোসেন খান আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও বাড়লে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে স্থিতিশীলতা বাড়বে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17011 ,   Print Date & Time: Thursday, 10 September 2026, 12:24:42 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh