• হোম > অর্থনীতি | দেশজুড়ে > হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর

হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর

  • বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২০
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে হংকংয়ে রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছে দিতে বিটুবি ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি হংকংয়ের গ্রিন রিটেইল ও ডিজাইন শিল্পে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব এবং বায়োডিগ্রেডেবল পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকিযুক্ত বা বিনামূল্যের প্রদর্শনী স্টল, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং যৌথ শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংকে দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।

বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানান সোফিয়া চং। তিনি বলেন, দুপক্ষের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বৈঠক শেষে সোফিয়া চংয়ের নেতৃত্বে এইচকেটিডিসির একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16973 ,   Print Date & Time: Thursday, 10 September 2026, 11:07:43 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh