• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সবশেষ যে তথ্য মিলল

নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সবশেষ যে তথ্য মিলল

  • বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৫
  • ৪

---

ইবি রিপোর্ট

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের রেজল্যুশন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এরপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর এসআরও নম্বর দিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর পে স্কেলের রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে। পরে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই ভেটিংয়ের কাজ চলছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গেজেট প্রকাশে কোনো ধরনের বিলম্ব করতে চায় না সরকার। প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় প্রয়োজন, শুধু ততটুকুই লাগছে। দ্রুত গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি চলতি সপ্তাহেই আদেশ জারির কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক ও আইনগত কিছু আনুষ্ঠানিকতার কারণে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেসিকে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। ফলে এ গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এতে বেতন বৃদ্ধি হয়েছে ১০০ শতাংশ।

তবে নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বর্ধিত মূল বেতন একসঙ্গে কার্যকর হবে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে নতুন বেসিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বেসিকের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যুক্ত হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে।

২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। বাড়তি ১১ হাজার ৭৫০ টাকার ৫০ শতাংশ বা ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা প্রথম ধাপে যুক্ত হয়ে বেসিক হবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা যোগ হয়ে তা দাঁড়াবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বেসিক হবে ২০ হাজার টাকা।

প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বাড়তি ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ বা ৩১ হাজার ২০০ টাকা প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক হবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যুক্ত হয়ে হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যোগ হয়ে চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

এদিকে নবম গ্রেডে বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। তিন ধাপে বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০, ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ৪৪ হাজার টাকা।

চাকরিজীবীদের জন্য আরেকটি বিষয় হলো, বেসিক তিন ধাপে বাড়লেও নতুন হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ে পুরো নতুন বেসিক কার্যকর হওয়ার পরও নতুন ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

নতুন ভাতা যুক্ত হলে প্রকৃত মাসিক আয় বাড়বে। ঢাকায় নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়া ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বেসিক ২০ হাজার টাকা হলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা মিলিয়ে মোট মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা হতে পারে। তবে কর্মস্থল ও প্রাপ্য ভাতার ধরন অনুযায়ী প্রকৃত আয় কম-বেশি হবে।

একইভাবে ১৩তম গ্রেডের একজন নতুন সহকারী শিক্ষক ২৪ হাজার টাকা বেসিক পেলে সব প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হওয়ার পর মোট মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা বেসিক হলে ভাতাসহ মোট আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।

নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার বেসিক হবে ৪৪ হাজার টাকা। ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যোগ হলে শুধু বেসিক ও বাড়িভাড়া মিলিয়েই আয় দাঁড়াবে ৬৬ হাজার টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতা যোগ হলে মোট মাসিক আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।

বর্তমানে কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাবটি আলাদা হবে। তাদের বর্তমান বেসিক, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ও বাড়বে। বেতন, ভাতা ও পেনশনসহ নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতো। তাই রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের ওপর একবারে বড় চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ শুধু পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকলে উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নতুন পে স্কেলের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপরও জোর দিতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16933 ,   Print Date & Time: Wednesday, 9 September 2026, 11:21:09 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh