• হোম > অর্থনীতি > কাপড়ের চালানের আড়ালে মিলল ১,৬৫৫টি মুঠোফোন

কাপড়ের চালানের আড়ালে মিলল ১,৬৫৫টি মুঠোফোন

  • বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৩
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

কাপড়ের চালান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে হংকং থেকে আনা হয়েছিল পণ্য। তবে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানটি পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে বিপুলসংখ্যক মুঠোফোন। কাপড়ের রোলের আড়ালে লুকানো অবস্থায় ১ হাজার ৬৫৫টি মুঠোফোন জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা ফোনগুলোর আনুমানিক দাম প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গতকাল সোমবার বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চালানটি জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৬০০টি শাওমি ব্র্যান্ডের রেডমি মডেলের নতুন মুঠোফোন। অবশিষ্ট ১ হাজার ৫৫টি ফোনের মধ্যে রয়েছে পুরোনো আইফোন এবং চীনের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোন।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমদানির সময় চালানটির পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ বা কাপড় উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে চালানটি পরীক্ষা করা হলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে থাকা সামগ্রীর মিল পাওয়া যায়নি। কাপড়ের রোলের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে কর্মকর্তারা মুঠোফোনগুলো দেখতে পান।

প্রাথমিক গণনায় জব্দ করা ফোনের মধ্যে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি এবং ১৫০টি রেডমি ১৫সি মডেলের ফোন রয়েছে। এ ছাড়া পুরোনো আইফোন ও চীনা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি মুঠোফোন পাওয়া যায়।

এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটি হংকং থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চালানটির মোট ওজন ৮৯৫ কেজি এবং এতে ২০টি প্যাকেজ ছিল। গত ৩১ আগস্ট চালানটি ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

নথিপত্রে চালানটির আমদানিকারক হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম উল্লেখ রয়েছে। পণ্যের ধরন হিসেবে সেখানে ‘নিট ফেব্রিকস’ লেখা হয়। তবে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরীক্ষায় কাপড়ের পরিবর্তে বিপুলসংখ্যক মুঠোফোনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চালানের ঘোষণার সঙ্গে পাওয়া পণ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। কাপড়ের রোলের ভেতরে মুঠোফোন লুকিয়ে আনার মাধ্যমে পণ্য গোপন এবং শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জব্দ করা মুঠোফোনগুলোর বিষয়ে এখন বিস্তারিত যাচাই করা হবে। ফোনগুলোর মডেল, আইএমইআই নম্বর এবং সেগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত—এসব তথ্য পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ফোনের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের কাজও করা হবে।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে মুঠোফোনগুলোর ওপর প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16923 ,   Print Date & Time: Wednesday, 9 September 2026, 09:42:43 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh