• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-পেমেন্ট ক্রেডিট

ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-পেমেন্ট ক্রেডিট

  • সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩
  • ৫

---

ইবি রিপোর্ট

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি দিয়ে গ্রাহকরা তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন বিল ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী, ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধের জন্য ঋণ দেওয়া যাবে। এর মধ্যে ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ফি, টোল ও টিকিটের খরচ, করসহ সরকারি বিভিন্ন ফি, আমানতের কিস্তি, বীমা প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি নেওয়া যাবে। অন্যদিকে ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ঋণের মূল অর্থ ও প্রযোজ্য ফি যথাক্রমে ৮, ১৬ অথবা ৩১তম দিনে পুরোপুরি পরিশোধ করতে হবে। ঋণের অর্থ অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি নির্ধারিত সেবা প্রদানকারীর কাছে পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ নগদে নেওয়া, গ্রাহকের ওয়ালেটে যোগ করা কিংবা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের আগেও ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত সুদ, প্রি-পেমেন্ট, আর্লি সেটেলমেন্ট বা ফোরক্লোজার চার্জ নেওয়া যাবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা বা ফি আরোপ করা যেতে পারে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহককে ঋণের ধরন, পরিমাণ, ফি, মেয়াদ ও পরিশোধের পদ্ধতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত জানাতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বিকল্প ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং মডেল ব্যবহার এবং ঝুঁকির ভিত্তিতে ঋণের সীমা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ডিজিটাল অনবোর্ডিং সম্পন্ন করতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ওটিপি, দুই স্তরের যাচাইকরণ (টুএফএ), মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) অথবা অন্য কোনো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

এই সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সেবা চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে গ্রাহক ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে থাকা ডেটা ওয়্যারহাউসে সংরক্ষণ এবং তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে কমপক্ষে ছয় মাস পাইলট ভিত্তিতে ই-পেমেন্ট ক্রেডিট কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাইলটের ফলাফল মূল্যায়ন এবং ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যাবে।

বাণিজ্যিকভাবে চালুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-কে পাইলটের মূল্যায়ন এবং অনুমোদিত প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইন (পিপিজি) সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16800 ,   Print Date & Time: Monday, 7 September 2026, 07:58:34 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh