
ইবি রিপোর্ট
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।ব্যাটারিসহ রুফটপ সোলার ব্যবস্থার জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে।জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বাড়তি বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য পাওয়া যাবে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ বাড়াতে সুবিধাটি চালু করা হয়েছে।
তবে শুধু ছাদে সোলার প্যানেল বসালেই প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।সুবিধা পেতে ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’-এর আওতায় আসতে হবে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যাটারিসহ রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। সোলার ব্যবস্থা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে স্থাপন করতে হবে।নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে নতুন সুবিধার আওতায় আসা যাবে না।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা–২০২৫’ হলো বাংলাদেশ সরকারের এমন একটি নির্দেশিকা, যার মাধ্যমে বাসাবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) স্থাপন করে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। নির্দেশিকাটি ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ বিভাগ ও টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( স্রেডা) প্রণয়ন করেছে।
নেট মিটারিং কী?
ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হলো। দিনে সোলার থেকে ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো। প্রতিষ্ঠানটি নিজে ব্যবহার করল ৬০ ইউনিট। বাকি ৪০ ইউনিট বিদ্যুৎ গ্রিডে চলে গেল। নেট মিটার ওই আমদানি-রপ্তানি বিদ্যুতের হিসাব রাখবে। পরবর্তী বিলের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী এই অতিরিক্ত বিদ্যুতের সমন্বয়/ক্রেডিট হবে।
তবে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের আগে নিজস্ব প্রয়োজন মেটাতে হবে ব্যবহারকারীকে।নিজের ব্যবহারের বিদ্যুতের জন্য কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।ব্যবহারের পর অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।
গ্রিডে দেওয়া বাড়তি বিদ্যুতের পরিমাণ হিসাবের আওতায় আসবে। সেই সরবরাহের ভিত্তিতেই প্রতি ইউনিটের মূল্য পরিশোধ করা হবে।
জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০.৫০ টাকা পাবে।প্রণোদনার এই সুবিধা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থাপন করলে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা মিলবে।তবে সুবিধা পেতে সব নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।নিজস্ব ব্যবহার ও গ্রিড সরবরাহের হিসাব আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।
সোলার ব্যবস্থার সব উপকরণ নির্ধারিত মান অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। সোলার প্যানেলকে বিএসটিআই এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মান পূরণ করতে হবে।একইভাবে ব্যাটারি ও ইনভার্টারেও নির্ধারিত মান বজায় রাখতে হবে। সোলার ব্যবস্থার মিটারও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্ধারিত মানে হতে হবে।মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার ছাড়া প্রণোদনার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের তথ্য সংরক্ষণ করবে।সরবরাহের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।এই তথ্যের ভিত্তিতে বাড়তি বিদ্যুতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। প্রণোদনার অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য বিবেচনায় থাকবে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন হবে।
প্রণোদনার অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর নির্ধারিত হিসাবে পাঠানো হবে।ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রণোদনার টাকা গ্রহণ করা যাবে।মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমেও অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।প্রণোদনার অর্থ নগদে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।তাই সুবিধাভোগীকে ব্যাংক অথবা এমএফএস ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে।রুফটপ সোলার ব্যবহারে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করা যাবে। জেনারেটরের ৭০ শতাংশ বাড়তি খরচ এড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।সুবিধা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। সোলার ব্যবস্থার উপকরণে মানসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।নিজস্ব ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম মানলেই প্রণোদনার আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।