• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে | বিদ্যুৎ ও জ্বালানি | সারাদেশ > বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে শিল্পের ভরসা এখন রুফটপ সোলার

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে শিল্পের ভরসা এখন রুফটপ সোলার

  • শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪২
  • ৯

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কখনো কখনো পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠছে যে, উৎপাদন চালু রাখতে ব্যয়বহুল ডিজেল বা গ্যাসচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে।

এমন বাস্তবতায় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার স্থাপনের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। একসময় বিদ্যুৎ বিল কমানো কিংবা পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের অংশ হিসেবে রুফটপ সোলারকে দেখা হলেও এখন এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও কারখানার উৎপাদন সচল রাখার অন্যতম নির্ভরযোগ্য উপায় হয়ে উঠছে সৌরবিদ্যুৎ।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ইতিমধ্যে ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে। এর বড় একটি অংশ রয়েছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে। তবে পোশাকশিল্পের বাইরেও ইলেকট্রনিক্স, ইস্পাত, কাচ, সিরামিক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্পে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার।

বিশেষ করে গত দুই বছরে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার পর শিল্পকারখানায় সোলার প্যানেল স্থাপনের গতি বেড়েছে। কারণ, বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে কয়েক ঘণ্টার জন্যও যদি কারখানা বন্ধ থাকে, তাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট, যন্ত্রপাতি চালু-বন্ধের ক্ষতি এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়।

উৎপাদন ধরে রাখতে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা

দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ওয়ালটন গ্রুপ রুফটপ সোলারে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কারখানাগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে।

ওয়ালটন গ্রুপের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিগগির আরও ২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হবে। এর ফলে বছরের শেষ নাগাদ কোম্পানিটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বছরে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৪ টাকা ২০ পয়সা। এই খরচ প্রচলিত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

লোডশেডিংয়ের সময় দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করায় কারখানাগুলো একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারছে, অন্যদিকে ডিজেল বা গ্যাসচালিত জেনারেটরের ব্যয়বহুল ব্যবহারও এড়াতে পারছে। আর ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিইএসএস থাকা কারখানাগুলো সূর্য ডোবার পরও সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারছে।

আকিজবশির গ্রুপেও বড় বিনিয়োগ

নরসিংদীর ঘোড়াশালে আকিজবশির গ্রুপের জনতা জুট মিলসে ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে। প্ল্যান্টটির সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে সূর্যের আলো না থাকলেও সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে চালু থাকা এই প্ল্যান্টে ট্রিনা সোলারের প্যানেল এবং হুয়াওয়ের ইনভার্টার ব্যবহার করা হয়েছে। প্ল্যান্টটি বছরে প্রায় ২ দশমিক ৭৬ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

আকিজবশির গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার হুসাইন মোহাম্মদ আল আমিনের মতে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা তাদের লোডশেডিংয়ের সমস্যা অনেকটাই কমিয়েছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

হবিগঞ্জের আকিজ গ্লাস কারখানাতেও ১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে গ্রুপটি। এর মধ্যে ৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও উৎপাদন চালু রাখা সহজ হচ্ছে।

আকিজবশির গ্রুপের পার্টিকেল বোর্ড, সিরামিক ও গ্লাসসহ বিভিন্ন কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৯০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে। আরও ৫০ মেগাওয়াট যুক্ত করার কাজ চলছে। আগামী দুই বছরে আরও ৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

গ্রুপটির কারখানাগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসছে।

প্রাণ-আরএফএলের লক্ষ্য শতভাগ সৌরবিদ্যুৎ

দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএলও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ১৮টি শিল্প পার্কে বিভিন্ন কারখানা পরিচালনাকারী এই গ্রুপের ২০টি কারখানায় প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট। বর্তমানে মোট চাহিদার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের কারণে তাদের কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে যেসব কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ রয়েছে, সেখানে উৎপাদন নিয়ে তুলনামূলক স্বস্তি ছিল।

বছরের শেষ নাগাদ সৌরবিদ্যুৎ থেকে মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণের লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে প্রাণ-আরএফএল।

সংকটের সমাধান থেকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ

শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলারের ব্যবহার অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুরু হয়েছিল বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি থেকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।

রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান জানান, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ২০১৯ সালে প্রায় বাধ্য হয়ে কারখানায় সোলার স্থাপন করেছিল তাদের প্রতিষ্ঠান। পরে সৌরবিদ্যুতের তুলনামূলক কম খরচ বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য কারখানাতেও এর ব্যবহার বাড়ানো হয়।

বর্তমানে রাইজিং গ্রুপের ছয়টি কারখানায় ১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার রয়েছে। দুটি পোশাক কারখানার প্রায় ৬০ শতাংশ এবং দুটি স্পিনিং মিলের প্রায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সংযোগের ধরন অনুযায়ী প্রায় ১২ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৮৫ পয়সা। রাতের পিক আওয়ারে এই ব্যয় প্রায় ১৬ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিপরীতে প্রযুক্তি ও প্রকল্পভেদে রুফটপ সোলারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ প্রায় ৪ থেকে ৮ টাকা।

অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাও বাড়াতে পারে।

কমেছে সোলার স্থাপনের খরচ

রুফটপ সোলারের জনপ্রিয়তা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো এর স্থাপনা ব্যয় আগের তুলনায় কমে আসা।

সুপার স্টার রিনিউয়েবল এনার্জির প্রধান নির্বাহী মিজানুর রহমান জানান, পাঁচ বছর আগে এক মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনে প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ হলেও বর্তমানে সেই ব্যয় প্রায় ৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

তার প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯০টি শিল্পকারখানায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার স্থাপন করেছে। আরও ১০টির বেশি প্রকল্পে কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওমেরা সোলারও শিল্পখাতে বড় পরিসরে কাজ করছে। ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০০টি শিল্পকারখানায় ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে। আরও ১২টি কারখানায় প্রায় ২০ মেগাওয়াট সোলার স্থাপনের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের জীবনকাল সাধারণত ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ফলে প্রাথমিক বিনিয়োগের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম থাকে।

বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও ছুটছে সোলারের দিকে

রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ এখন শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আবুল খায়ের স্টিল, হা-মীম গ্রুপ, বিএসআরএম, ইয়াংওয়ান গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যাসিফিক জিন্স, টিম গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, রাইজিং গ্রুপ, উর্মি গ্রুপ, মাইক্রোফাইবার গ্রুপ, পালমাল গ্রুপ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, কর্ণফুলী সুজ ও মাসকো গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে অথবা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

ডিবিএল গ্রুপের সাতটি পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় ৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সোলার স্থাপন করা হয়েছে। আরও ১০টি তৈরি পোশাক ও সিরামিক কারখানায় ১৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার জানান, কারখানার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিদেশি ক্রেতাদের চাপ—দুই কারণেই দ্রুত সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানাগুলোতে বর্তমানে ৬৪ দশমিক ৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫ শতাংশ পূরণ করছে। আরও ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি শুধু কারখানার ছাদেই নয়, ভবনের সম্মুখভাগ, সীমানাপ্রাচীর এবং সড়ক বিভাজকেও সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা খুঁজছে।

পরিবেশের পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তা

রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশি ক্রেতারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে রুফটপ সোলার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিবেশগত দায়বদ্ধতা পূরণেরও একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

তবে বর্তমান সময়ে শিল্পমালিকদের কাছে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। একটি বড় কারখানার পুরো বিদ্যুৎ চাহিদা হয়তো শুধু রুফটপ সোলার দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দিনের কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করাও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলে উৎপাদন আরও দীর্ঘ সময় সচল রাখা সম্ভব। এতে গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমে এবং ব্যয়বহুল জেনারেটরের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ

শিল্পমালিকদের সৌরবিদ্যুতে আরও উৎসাহিত করতে সরকারও নতুন প্রণোদনা যুক্ত করেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি গেজেট অনুযায়ী, ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫’-এর আওতায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যাটারিচালিত রুফটপ সোলার সিস্টেমের সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে অতিরিক্ত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

এর ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও উৎসাহিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে দেশের শিল্পখাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার এখন একটি নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস কিংবা পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার অন্যতম কৌশল হয়ে উঠছে সৌরবিদ্যুৎ।

জ্বালানি সংকট যতটা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, শিল্পকারখানার জন্য নির্ভরযোগ্য বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজনও তত বাড়ছে। সেই জায়গায় কারখানার ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না, বরং গ্রিড অচল হয়ে পড়লেও শিল্পের চাকা সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16691 ,   Print Date & Time: Saturday, 5 September 2026, 01:39:58 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh