
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সাইটে খুব শিগগিরই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘তুচ্ছ বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধ’ বলা উচিত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি একে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার ভাষ্য, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটাকে যুদ্ধ বলেন না। আমি এটাকে সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটা আমাদের জন্য তুচ্ছ বিষয়। এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সরাসরি কোনো বড় ধরনের লড়াইয়ে নেই। বরং ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের রাডার, বিমান এবং কৌশলগত জলপথ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যকে রক্ষায়ও ভূমিকা রেখেছে। তার ভাষায়, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সাইটে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে আঘাত হানতে পারি।’
তবে সম্ভাব্য হামলার সময় বা সংঘাত শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সংঘাত কখন শেষ হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন না।
তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তার প্রধান উদ্দেশ্য অর্জন করেছে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সাইটে সম্ভাব্য হামলার কথা প্রকাশ্যে বলায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।