• হোম > ক্রাইম | লাইফ স্টাইল > অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে এনআইডি-কলরেকর্ড

অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে এনআইডি-কলরেকর্ড

  • শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৪
  • ৯

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন কিংবা কোন এলাকা থেকে কল করেছেন—এমন সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যও এখন টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শুধু কল রেকর্ড বা মোবাইলের অবস্থান নয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, পাসপোর্ট, জন্ম ও মৃত্যুসনদ, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির তথ্যও অনলাইনে বিক্রির দাবি করছে একটি চক্র।

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যেই চলছে এসব তথ্যের কেনাবেচা। মাত্র ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে। লেনদেনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা।

তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত তথ্যের এমন একটি ভয়ংকর অনলাইন বাজারের চিত্র।

কী ধরনের তথ্য বিক্রি হচ্ছে

ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির দাবিতে শুধু কললিস্ট বা লোকেশন নয়, আরও বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্যের তালিকা দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে এনআইডির তথ্য, ফোন কলের রেকর্ড, মোবাইলের অবস্থান, পাসপোর্টের তথ্য, নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠানো এসএমএসের তালিকা, টিআইএন সনদ, জন্ম ও মৃত্যুসনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবের বিবরণী।

এনআইডির ক্ষেত্রে ভোটার নম্বর, ছবি, জন্মতারিখ, মা-বাবার নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন তথ্য সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কল রেকর্ডের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কাকে ফোন করেছেন, কখন ফোন করেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন এবং কলটি করেছেন নাকি গ্রহণ করেছেন—এসব তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করছে বিক্রেতারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিম ও হ্যান্ডসেটের তথ্যও সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে।

কম টাকাতেই মিলছে সংবেদনশীল তথ্য

অনুসন্ধানে বিভিন্ন তথ্যের জন্য আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এনআইডির পিডিএফ বা সাইন কপি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রির দাবি করা হচ্ছে। আবার মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে এনআইডির পিডিএফ সরবরাহের জন্য ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

কোনো মোবাইল নম্বরের অবস্থান জানাতেও অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানের একটি ঘটনায় টাকা দেওয়ার মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে একটি মোবাইল নম্বরের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ডিসমিসল্যাব।

এ ছাড়া তিন মাসের কল রেকর্ডের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য সরবরাহে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগার কথা জানানো হয়।

বিকাশ হিসাবধারীর এনআইডি ও স্টেটমেন্টের তথ্যের জন্য ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার দাবিও পাওয়া গেছে।

১৬ মিনিটেই পাওয়া গেল মোবাইলের লোকেশন

ডিসমিসল্যাব একটি গ্রামীণফোন নম্বরের অবস্থান জানতে চেয়ে অর্থ প্রদান করে। এরপর মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে ওই নম্বরের তথ্য সরবরাহ করা হয় বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্রেতার দেওয়া তথ্যে নম্বরটি সর্বশেষ কখন সক্রিয় ছিল, মোবাইল টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান এবং একটি ঠিকানা দেওয়া হয়। এমনকি গুগল ম্যাপের লিংকও পাঠানো হয়।

দীর্ঘ সময়ের কল রেকর্ড ও লোকেশন তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা গেলে একজন ব্যক্তি কোথায় কোথায় যাতায়াত করেছেন, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। ফলে এসব তথ্য ফাঁস হলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ফেসবুক-টেলিগ্রামেও প্রকাশ্যে বিক্রি

ডিসমিসল্যাব ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের পোস্ট বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছে।

এ ছাড়া এক মাসে ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার ৬০০টির বেশি পোস্ট পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব ওয়েবসাইটের নকশা ও কার্যক্রমের ধরনও অনেকটা একই। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, টিআইএন, কল রেকর্ড ও মোবাইলের অবস্থানের তথ্যের মূল্য তালিকা দেওয়া ছিল।

এর মধ্যে অন্তত একটি ওয়েবসাইট ২০২৫ সালে নিবন্ধিত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে ডিসমিসল্যাব।

চাঁদপুরের একটি ওয়েবসাইটের মালিককেও শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন বলে জানা গেছে।

তিনি দাবি করেন, ৮০০ টাকায় মোবাইল গ্রাহকের কলের তালিকা কিনে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেন। আবার ১ হাজার টাকার বিনিময়ে কোনো বিকাশ নম্বর খোলার সময় ব্যবহৃত এনআইডির তথ্য সরবরাহ করা যায় বলেও দাবি করেন। ৪ হাজার ৫০০ টাকা দিলে বিকাশ হিসাবের বিবরণী দেওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।

কীভাবে ফাঁস হচ্ছে তথ্য

ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই তথ্যের বাজারে একাধিক স্তরের বিক্রেতা ও মধ্যস্বত্বভোগী রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। পরে বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এরপর সেই তথ্য আবার হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

চাঁদপুরের ওই ওয়েবসাইটের মালিক দাবি করেন, তিনি অন্য একটি গ্রুপের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। ওই গ্রুপ একটি সরকারি সার্ভারের নিরাপত্তাব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে এপিআইয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে বলে তাঁর দাবি।

তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব। ওই ব্যক্তির কথিত উৎসের পরিচয়ও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের অভিযোগ

ডিসমিসল্যাব দুটি মোবাইল অপারেটর ও একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কেউ যুক্ত না থাকলে রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ করা কঠিন। অথবা কোনো ব্যক্তি তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মোবাইল অপারেটরের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, বিটিআরসি, জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ ১০টির বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অপারেটরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার রয়েছে।

এই প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে গ্রাহকের কল রেকর্ড ও সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য দেখা এবং পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজতে সংশ্লিষ্ট অপারেটর নিজস্ব তদন্ত চালিয়েছে। তদন্তে একটি সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার এপিআই ব্যবহার করে কিছু তথ্য ফাঁসের বিষয়টি পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং ওই সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিন বছর ধরে চলছে তথ্যের বেচাকেনা

ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার এই প্রবণতা নতুন নয়। গত তিন বছর ধরে এ ধরনের তথ্য বিক্রির পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকেই ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৫ সালের মার্চে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও একই ধরনের সেবা বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।

এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে এনটিএমসি বিষয়টি পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল। সেখানে ৭৮৯টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে মানুষের এনআইডি ও কল রেকর্ড বিক্রির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল।

তদন্তে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের একজন পুলিশ সুপার এবং র‍্যাব-৬-এর একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাইবার অপরাধ শাখার একজন কনস্টেবল অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল কল রেকর্ড বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে বড় ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এনআইডি, কল রেকর্ড ও অবস্থানের মতো তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কারও এনআইডির পূর্ণাঙ্গ তথ্য অন্যের হাতে চলে গেলে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, প্রতারণা করা কিংবা বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, একজন ব্যক্তির নিয়মিত চলাফেরা, অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য অপরাধী বা স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের হাতে গেলে ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি কিংবা আরও গুরুতর অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আইনে তথ্য সুরক্ষার বিধান

বাংলাদেশের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা যাবে না।

কোনো ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তথ্যের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে প্রশাসনিক জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিসমিসল্যাব নির্বাচন কমিশন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগ, এনটিএমসি ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মোমিন জানান, এ বিষয়ে বক্তব্য পেতে কমিশনে লিখিত আবেদন করতে হবে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন শাখার মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশার কাছেও প্রশ্ন পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এনটিএমসির অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে ই-মেইলে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার মহাপরিচালক মো. তাইবুর রহমানের কাছেও প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ডিসমিসল্যাব।

ব্যক্তিগত তথ্যের এমন প্রকাশ্য কেনাবেচার ঘটনা নাগরিকদের গোপনীয়তা, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। তথ্যের উৎস কোথায় এবং কীভাবে এসব তথ্য বাজারে পৌঁছাচ্ছে, তা শনাক্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16580 ,   Print Date & Time: Friday, 4 September 2026, 11:55:48 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh