
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপের ফাইনাল দিয়েই কি শেষ হয়ে গেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়? জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর আপাতদৃষ্টিতে উত্তরটা ‘হ্যাঁ’। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবলে এখন তৈরি হয়েছে নতুন এক সম্ভাবনা। দেশের মাটিতে সমর্থকদের সামনে অধিনায়ককে আরও একবার মাঠে নামিয়ে আনতে বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাবছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
তবে সম্ভাব্য এই ম্যাচ কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের অংশ হবে না। বরং মেসির বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে সম্মান জানিয়ে একটি বিশেষ বিদায়ী আয়োজন হিসেবেই ম্যাচটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই তার শেষ ম্যাচ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অধিনায়ককে নিজেদের সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে ঘরের মাঠে একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে এএফএ।
তবে পুরো পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মেসির নিজের সম্মতি। তিনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিতে আগ্রহী কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরই আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা দুই বা তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই মেসির জন্য একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। অবশ্য কিছু প্রতিবেদনে চারটি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ম্যাচের প্রতিপক্ষ, তারিখ কিংবা ভেন্যু—কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের এক সাংবাদিকের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি দেশের মাটিতেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল। আর্জেন্টিনা নিয়মিত এই স্টেডিয়ামেই নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজন করে। পাশাপাশি মেসির জন্মশহর রোসারিওতেও ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হচ্ছে।
মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচটি হবে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহের। তাকে নতুন কোনো টুর্নামেন্টে ফেরানোর উদ্দেশ্য নয়, বরং নিজের দেশের সমর্থকদের সামনে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানাই হবে এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পরই মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন এই তারকা।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ সাফল্যে ভরা। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি। জাতীয় দলের হয়ে ছয়টি বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর মধ্যে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন।
এত দীর্ঘ ও বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে হওয়ায় সমর্থকদের বিদায়টিও কিছুটা বিষণ্ন হয়ে ওঠে। আর সে কারণেই দেশের দর্শকদের সামনে মেসিকে আরও একবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখার সম্ভাবনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
যদি শেষ পর্যন্ত এমন ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো স্টেডিয়ামে নয়, নিজের দেশের মানুষের সামনে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামার সুযোগ পাবেন মেসি। একই সঙ্গে আর্জেন্টাইন সমর্থকদেরও কিংবদন্তি অধিনায়ককে সরাসরি বিদায় জানানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবলে মেসির পথচলা এখনই থামছে না। ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবার মাঠে নামার বিষয়টি পুরোপুরিই নির্ভর করছে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছার ওপর।
সব মিলিয়ে মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। প্রতিপক্ষ, সময় ও ভেন্যু—সবই রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরও একবার মেসিকে দেখা যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি এখন তার নিজের হাতেই।