• হোম > আইন আদালত | জাতীয় | সারাদেশ > মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল

মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল

  • শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭
  • ৭

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সারা দেশে একাধিক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪(ক) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় এখতিয়ারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার জন্য মোট ২২টি পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের অধীনে কোন জেলা, মহানগর ও থানার মাদক মামলার বিচার হবে, সেটিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত তালিকায় উল্লেখ করা মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করা হলো। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের বিপরীতে জেলা, মহানগর ও থানাভিত্তিক স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকায় তিনটি ট্রাইব্যুনাল

সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার জন্য পৃথক তিনটি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

এর মধ্যে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা-এর এখতিয়ারে থাকবে পুরো ঢাকা জেলা এলাকা।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা মহানগর-১-এর আওতায় রাখা হয়েছে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল, শেরেবাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা।

আর মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা মহানগর-২-এর এখতিয়ারে রয়েছে কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালি, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা।

নতুন ট্রাইব্যুনালে যাবে পুরোনো মামলা

নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি এসব আদালতে চলমান মাদক মামলাও স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিচারাধীন মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে।

মামলা যে পর্যায়ে নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হবে, ঠিক সেই পর্যায় থেকেই সেখানে বিচারকাজ পরিচালিত হবে। অর্থাৎ নতুন করে মামলার কার্যক্রম শুরু করার পরিবর্তে আগের আদালতে যে পর্যায়ে বিচারপ্রক্রিয়া ছিল, সেই পর্যায় থেকেই তা অব্যাহত থাকবে।

বিচারাধীন ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মাদক মামলা

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপুলসংখ্যক মাদক মামলা নতুন ট্রাইব্যুনালের আওতায় আসবে। প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৩টি মাদক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগর এলাকাতেই রয়েছে ২১ হাজার ৯২০টি মামলা।

বিপুলসংখ্যক মামলা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন থাকায় মাদক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন উঠেছে। নতুন করে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এসব মামলার বিচার কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষায়িত আদালতে বাড়বে বিচার কার্যক্রম

মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা এবং বিচারাধীন মামলার চাপ বিবেচনায় সরকার নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালের নির্দিষ্ট স্থানীয় এখতিয়ার থাকায় মামলাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য নির্ধারিত আদালতে পরিচালিত হবে।

বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালগুলোর মাধ্যমে মাদক মামলার বিচার কার্যক্রমে গতি আনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তির পথও সহজ হতে পারে। তবে নতুন ট্রাইব্যুনালগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় বিচারক, জনবল ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত মামলাগুলো নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলো তাদের নির্ধারিত এখতিয়ার অনুযায়ী মাদক মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16546 ,   Print Date & Time: Friday, 4 September 2026, 07:47:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh