
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া এবং বিভিন্ন কাজের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশটিতে পাঠানো ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গতকাল থাই এয়ারওয়েজের টি-৩২১ ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকে কম্বোডিয়ায় গিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকা পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। কাজের ভালো সুযোগ, উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও পরে তারা নানা ধরনের সংকট ও ঝুঁকির মুখে পড়েন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
আরও বাংলাদেশি ফেরার অপেক্ষায়
এর আগে গত জুনে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। এবার দেশটির সরকার অতিরিক্ত সময় অবস্থানরত বিদেশিদের জরিমানা ছাড়াই স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
জানা গেছে, কম্বোডিয়ায় এখনো প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের একটি অংশও বিভিন্ন প্রতারণামূলক চক্রের মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
ফেরত আসা কর্মীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কাজের প্রলোভনে বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার গুরুত্বও এ ঘটনায় আবার সামনে এসেছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার শিকার হওয়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।