• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

  • বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৮
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগে গত মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ।

এমন সময়ে খেলাপি ঋণের এই তথ্য এলো, যখন বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড সর্বনিম্ন ৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে স্পষ্ট যে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় বিদ্যমান ঋণগুলো ক্রমাগত খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।

খেলাপি ঋণে লাগাম টানতে এক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যে বিশেষ ঋণ পুনঃ তফসিল প্যাকেজ চালু করেছিল, তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সুবিধা নেওয়া অনেক গ্রাহক পুনরায় খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্র্রতি আরো নমনীয় শর্তে দ্বিতীয় বারের মতো বিশেষ পুনঃ তফসিল সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত বিশেষ সুবিধার আওতায় প্রায় ৩০০ জন ঋণগ্রহীতা তাদের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল বা পুনর্গঠন করেছিলেন। ঐ প্যাকেজে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। আগের সুবিধা নেওয়া অনেক গ্রাহক এখনো তাদের দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যেই রয়েছেন, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক এবার নতুন প্যাকেজের আওতায় তাদের পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট ঘোষিত সর্বশেষ প্যাকেজে শর্তসমূহ আরো শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা গ্রাহকেরা দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বমোট ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃ তফসিল করতে পারবেন। পাশাপাশি ঋণ পুনর্গঠনের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সহায়তার পর থেকে শিল্পখাত একের পর এক চাপের মুখোমুখি হয়েছে। আগের সুবিধাটি দেওয়ার পর দেশ গ্যাস-সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দামেও প্রভাব পড়েছে। একাধিকবার অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতকে পুনরুদ্ধার ও সহায়তা দিতে স্বল্প সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আশা করা হচ্ছে, ব্যাবসায়িক গতিশীলতা ফিরলে গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবেন এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণও ধীরে ধীরে কমে আসবে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকই এই প্রণোদনা কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16486 ,   Print Date & Time: Friday, 4 September 2026, 11:01:38 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh