• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে | বাণিজ্য > রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএর সাক্ষাৎ: তিন বছরে বন্ধ দেশের ৪০০ তৈরি পোশাক কারখানা

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএর সাক্ষাৎ: তিন বছরে বন্ধ দেশের ৪০০ তৈরি পোশাক কারখানা

  • বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪২
  • ৪

---

ইবি রিপোর্ট

গ্যাস-সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় গত তিন বছরে দেশের প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় বর্তমানে অধিকাংশ কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকের কম উৎপাদন করতে পারছে। এতে নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়া এবং বিদ্যমান আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, অর্থায়ন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বাণিজ্য চুক্তি করার উদ্যোগ জোরদারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। গতকাল বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার ও মজুরি সমন্বয়ের কারণে গত তিন বছরে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগও কমেছে।

জ্বালানির সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, এলএনজি আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং জ্বালানির দাম দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। ১৫০ থেকে ৫০০ কেজি বয়লার ব্যবহারকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বল্প সুদের ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

পরিবহন ও বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত কার্গো শেড নির্মাণ এবং বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যাংকঋণের সুদ কমানোর পাশাপাশি পোশাকশিল্পের জন্য বিশেষ ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ চালুর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। গার্মেন্টস ট্রেড ফাইন্যান্স (জিটিএফ) ও ট্রেড ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (টিডিএফ) তহবিলে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়েছে। ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে কাস্টমসের বন্ড অডিট প্রক্রিয়া সহজ ও প্রাতিষ্ঠানিক করার পাশাপাশি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল দ্রুত আমদানির জন্য বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি আবার চালুর দাবি করেছে বিজিএমইএ।

এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ জোরদারের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার কথাও বলা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16476 ,   Print Date & Time: Thursday, 3 September 2026, 08:37:51 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh