• হোম > আন্তর্জাতিক | এশিয়া | বিদেশ | বিশ্ব সংবাদ > নেপালের বন্যার পর বিহারে অচেনা মাছ নিয়ে সতর্কতা

নেপালের বন্যার পর বিহারে অচেনা মাছ নিয়ে সতর্কতা

  • বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮
  • ১০

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর বিহারের নদীগুলোতে ভেসে আসা অচেনা ও অস্বাভাবিক আকৃতির মাছ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় সরকার। সাধারণ মানুষকে এসব মাছ না ধরা, না খাওয়া এবং বাজারে কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিহারের মৎস্য, দুগ্ধ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, নেপালের দিক থেকে বন্যার পানির সঙ্গে আসা অপরিচিত মাছ বিভিন্ন নদীতে পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছের কয়েকটি খাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিহারের চম্পারণ, গোপালগঞ্জসহ নেপাল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারের ও স্থানীয়দের কাছে অচেনা কিছু মাছ ধরা পড়েছে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতের সঙ্গে এসব মাছ নদীতে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দূষণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা

বিহার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আকস্মিক বন্যার সময় নদীর পানি পয়োবর্জ্য, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে। ফলে ওই পানিতে থাকা মাছ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা দূষিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

এ কারণে অপরিচিত মাছ ধরা, খাওয়া, কেনা বা বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নন্দকিশোর রাম জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের দূষণ বা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নেপালের বন্যার পানি থেকে আসা কোনো অচেনা বা অস্বাভাবিক মাছ খাওয়া উচিত নয়। বাজারেও এ ধরনের মাছের কেনাবেচা করা যাবে না।

অচেনা মাছ খেয়ে অসুস্থ কয়েকজন

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্যার পানির সঙ্গে আসা কিছু মাছ খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কোন মাছ খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়েছেন এবং অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

এ ধরনের মাছ খাওয়ার পর বমি, তীব্র ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নদীতে মিলছে বড় আকারের মাছ

নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে বিহারের গণ্ডক, গঙ্গা ও কোশী নদী এবং এসবের শাখা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নেপালে গণ্ডক নদী নারায়ণী নামে পরিচিত।

নেপাল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার জেলেরা সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারের মাছ ধরার কথা জানিয়েছেন। সহর্ষা, গোপালগঞ্জ ও বাগাহার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জেলেদের জালে অস্বাভাবিক আকৃতির মাছ ধরা পড়ছে।

গোপালগঞ্জ সীমান্তবর্তী মঙ্গলপুর ঘাটের এক জেলে জানান, নেপালের আকস্মিক বন্যার পর নদীর স্রোতে কিছু অদ্ভুত মাছ দেখা যাচ্ছে। সাধারণ সময়ে মাছ ধরার সময় এ ধরনের মাছ খুব একটা দেখা যায় না। পানি থেকে তোলার পর এসব মাছের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সহর্ষার আরেক জেলে জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা ২৭ থেকে ৩৮ কেজি এমনকি ৪০ থেকে ৪৫ কেজি ওজনের মাছও ধরছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মাছের মধ্যে বোয়াল, বাঘাইড় বা গুঞ্চ ক্যাটফিশ, রুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে।

প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ

অপরিচিত মাছ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে বিহার সরকার।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অপরিচিত বা অচেনা মাছ ধরা পড়লে কিংবা এ ধরনের মাছের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অথবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া অপরিচিত কোনো মাছ না খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের বন্যার পানি বিহারের বিভিন্ন নদীতে প্রবেশের পর নতুন ধরনের মাছের উপস্থিতি এবং নদীর পানিতে দূষণের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর মাছ ব্যবহারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/16384 ,   Print Date & Time: Thursday, 3 September 2026, 09:49:33 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh