
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ( এনবিআর) ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এখন থেকে বার্ষিক দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের টার্নওভার কর পরিশোধ করতে হবে না।
আগে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র বাদে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে তাদের বার্ষিক লেনদেনের ওপর এক শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হতো। কম মুনাফার ব্যবসা কিংবা লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও লাভ-লোকসানের হিসাব না করেই এই কর বাধ্যতামূলকভাবে পরিশোধ করতে হতো। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হতো।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বার্ষিক দুই কোটি টাকা থেকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির জন্য টার্নওভার করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ যত টাকা বার্ষিক লেনদেন হবে, তার ওপর আধা শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হবে। তবে চার কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতো এক শতাংশ ন্যূনতম কর বহাল রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং ঢাকা চেম্বার এই এক শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার করব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছিল। তাদের এই জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর করের হারে এই পরিবর্তন এনেছে।
আয়কর আইনের ১৬৩ ধারায় টার্নওভার কর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়িক খাতের করের হারে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর প্রথম তিন বছর পর্যন্ত এক শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ হারে টার্নওভার কর দিতে পারবে, যা আগে থেকেই চালু ছিল।
অন্যদিকে, তামাকজাত পণ্য ও অন্যান্য নির্দিষ্ট কিছু খাতের জন্য করের হার ভিন্ন থাকবে। সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের ওপর টার্নওভার কর তিন শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্বোনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের জন্য এই হার আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের ক্ষেত্রে দেড় শতাংশ রাখা হয়েছে। সাধারণ খাতের করের হার কমিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রাজস্ব বোর্ড এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে।